২০-জনের মৃত্যর পর খুলল স্যোশাল মিডিয়া, জেনজেড বিক্ষোভে ‘দ্ব্যর্থতা’র দায় চাপালেন ওলি

কাঠমাণ্ডু: নেপালের রাজপথ ফের অগ্নিগর্ভ। সোমবার যে বিক্ষোভে কেঁপে উঠেছিল কাঠমাণ্ডু সহ একাধিক শহর, সেই আন্দোলনকে মঙ্গলবারও থামানো যায়নি। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, সোমবারের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন প্রাণ ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
nepal lifts social media ban

কাঠমাণ্ডু: নেপালের রাজপথ ফের অগ্নিগর্ভ। সোমবার যে বিক্ষোভে কেঁপে উঠেছিল কাঠমাণ্ডু সহ একাধিক শহর, সেই আন্দোলনকে মঙ্গলবারও থামানো যায়নি। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, সোমবারের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত প্রায় আড়াই শতাধিক। এই পরিস্থিতিকে প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি আখ্যা দিয়েছেন “অপ্রীতিকর পরিস্থিতি” হিসেবে।

জেনজেড প্রজন্মের ভাবনায় দ্ব্যর্থতা 

ওলির দাবি, সরকারের উদ্দেশ্য কখনোই সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করা ছিল না। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমকে রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়াস সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছায়নি। তাঁর কথায়, “আমাদের জেনজেড প্রজন্মের ভাবনার মধ্যে কিছু দ্ব্যর্থতা রয়েছে, সেই কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার কখনোই সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করার পক্ষপাতী নয়। ব্যবহার করার পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করব। এ জন্য রাস্তায় নামার প্রয়োজন ছিল না।”

   

 

সরকারি নির্দেশে সোমবার রাতেই তুলে নেওয়া হয়েছিল ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স-সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। মঙ্গলবারও রাজপথে নামে ছাত্র-যুবকেরা। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, দুর্নীতি বন্ধ করা এবং বাক্‌স্বাধীনতার ওপর চাপ প্রয়োগ বন্ধ হোক।

তদন্তের ঘোষণা nepal lifts social media ban

প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ওলি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সেই প্রতিবেদনে রক্তক্ষয়ের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির হিসেব এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ থাকবে। নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের নিখরচায় চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগ করবেন না ওলি

এদিকে, বিরোধীদের দাবিকে নস্যাৎ করে নেপালের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করছেন না।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

নেপালে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকার রাষ্ট্রদূতাবাস যৌথ বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন কেবল সামাজিক মাধ্যমের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। পিছনে জমে থাকা ক্ষোভ- বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থাই ছাত্র-যুবকদের রাস্তায় নামিয়েছে। নেপালের নতুন প্রজন্মের এই প্রতিবাদ সামনের দিনে দেশের রাজনীতিকে নতুন করে নাড়িয়ে দিতে পারে।

World: Nepal protests intensify over free speech and corruption. Amidst ongoing unrest in Kathmandu, Prime Minister K.P. Sharma Oli addresses the government’s stance on social media regulation, while activists demand an end to new restrictions.

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google