RBI-এর MPC বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা, ৯ এপ্রিল চূড়ান্ত রায় ঘোষণা

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সোমবার থেকে শুরু করেছে তার দ্বিমাসিক মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC)-র বৈঠক। দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণকারী এই বৈঠকে বাজারের চোখ…

RBI MPC Meeting 2025

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সোমবার থেকে শুরু করেছে তার দ্বিমাসিক মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC)-র বৈঠক। দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণকারী এই বৈঠকে বাজারের চোখ রয়েছে বিশেষভাবে রেপো রেটের উপর। চলতি বৈঠকে ফের ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ হ্রাসের সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান পরিস্থিতি

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক শেষবার ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৬.২৫ শতাংশে নিয়ে আসে। সেই ছিল ২০২০ সালের মে মাসের পর প্রথমবার সুদের হার হ্রাস এবং প্রায় আড়াই বছরের ব্যবধানে প্রথম পরিবর্তন। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব ভারতের উপরও পড়েছে। এই অবস্থায়, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই নীতিগত নমনীয়তা দেশের অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধিকে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা।

Advertisements

MPC কী এবং কারা থাকেন তাতে?

মনিটারি পলিসি কমিটি হল ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি দল, যেটি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই কমিটির প্রধান হন RBI গভর্নর, বর্তমানে যিনি হলেন সঞ্জয় মালহোত্রা। কমিটিতে তিনজন বাইরের সদস্য থাকেন, যাঁদের কেন্দ্র সরকার নিয়োগ করে। এছাড়াও থাকেন দুইজন সিনিয়র RBI আধিকারিক এবং গভর্নর স্বয়ং।

এই কমিটি প্রতি অর্থবছরে ছয়বার বৈঠকে বসে — এপ্রিল, জুন, আগস্ট, অক্টোবর, ডিসেম্বর এবং ফেব্রুয়ারি মাসে। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় থাকে সুদের হার, মূল্যস্ফীতির দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থ সরবরাহ, জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক।

পুনম গুপ্তার প্রথম বৈঠক

এবারের বৈঠক আরও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি হল নবনিযুক্ত ডেপুটি গভর্নর ডঃ পুনম গুপ্তার প্রথম এমপিসি বৈঠক। তিনি দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (IMF) কাজ করেছেন। তার সাথে, তিনি হলেন গত এক দশকে RBI-র প্রথম নারী ডেপুটি গভর্নর। অর্থনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সুদের হার কমানোর পক্ষে তার অবস্থান, এই বৈঠকে তার দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তার যুক্তি এবং অবস্থান কমিটির ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্ববাজারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কনীতির কারণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে পুনম গুপ্তার মতো অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদের মতামত বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

মূল্যস্ফীতির চিত্র ও বাজার প্রত্যাশা

সম্প্রতি ভারতের খুচরো মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানির দামে স্থিতিশীলতা থাকায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জন্য রেপো রেট কমানোর একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শিল্প ক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধিও মন্থর হয়েছে। বাজারের একটি বড় অংশ আশা করছে, RBI আরও একধাপ রেপো রেট কমিয়ে ঋণের বাজারে গতি আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ‘‘এই মুহূর্তে RBI-র প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া। সুদের হার কমলে ঋণ গ্রহণ সহজ হবে, যা অর্থনীতিকে উৎসাহ দিতে পারে।’’

এপ্রিলের এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হবে বুধবার। সব ধরনের দিক বিচার করে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, RBI হয়তো তার ‘আকোমোডেটিভ’ নীতিগত অবস্থান বজায় রাখবে এবং আরও একধাপ রেপো রেট কমাতে পারে। এতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি নতুন উদ্যম পেতে পারে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনীতিবিদদের নয়, প্রতিটি সাধারণ ঋণগ্রহীতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহল এবং বিনিয়োগকারীদের কাছেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন ডেপুটি গভর্নর পুনম গুপ্তার অবদান ও বিশ্লেষণ কীভাবে এই কমিটিকে প্রভাবিত করে, সেটাও আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।