কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কল্যাণকর প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হল প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা (PM Kisan Yojana)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বর্তমানে এই যোজনার ২০তম কিস্তি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন কৃষকরা। তবে এর মধ্যেই একটি বড় ঘোষণা এসেছে, যা কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এই নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের কৃষকরা এখন থেকে বছরে ৬০০০ টাকার পরিবর্তে ৯০০০ টাকা পাবেন। কোন রাজ্যের কৃষকরা এই সুবিধা পাবেন এবং এর বিস্তারিত কী, তা জানতে এই প্রতিবেদনটি পড়ুন।
বর্তমানে কত টাকা মিলছে কিস্তিতে?
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার আওতায় বর্তমানে কৃষকরা প্রতি চার মাস অন্তর ২০০০ টাকা করে পান। এই হিসেবে বছরে মোট ৬০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই টাকা সরাসরি ডিবিটি (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। এই প্রকল্পটি কৃষকদের কৃষি কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এবার এই সুবিধা আরও বাড়তে চলেছে একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের কৃষকদের জন্য।
কোন রাজ্যের কৃষকরা পাবেন এই সুবিধা?
আপনি যদি পিএম কিষাণ যোজনার সুবিধাভোগী হন এবং দিল্লি রাজ্যের কৃষক হন, তবে আপনার জন্য সুখবর। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সম্প্রতি রাজ্যের বাজেটে ঘোষণা করেছেন যে, দিল্লির কৃষকরা এখন থেকে বছরে ৬০০০ টাকার পরিবর্তে ৯০০০ টাকা পাবেন। এই ঘোষণার পর কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে, যদিও মুখ্যমন্ত্রী এখনও এটি কবে থেকে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট করেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, শীঘ্রই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সব কৃষকদের জন্য বছরে ৬০০০ টাকা প্রদান করে, যা তিনটি কিস্তিতে দেওয়া হয়। এখন দিল্লি সরকার রাজ্যের কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে দিল্লির কৃষকরা মোট ৯০০০ টাকা বার্ষিক সুবিধা পাবেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি কিস্তিতে ২০০০ টাকার সঙ্গে ১০০০ টাকা অতিরিক্ত যোগ হবে। অর্থাৎ, তিনটি কিস্তিতে ৩০০০ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হবে, যা বছরে মোট ৯০০০ টাকার সুবিধা নিশ্চিত করবে। তবে, এই বিষয়ে এখনও সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছে।
কীভাবে মিলবে এই অতিরিক্ত সুবিধা?
আপনি যদি ইতিমধ্যে পিএম কিষাণ যোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং দিল্লির কৃষক হন, তবে এই অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা পাওয়ার জন্য আপনাকে আলাদা কিছু করতে হবে না। এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে যোগ হবে। তবে, এটি পাওয়ার জন্য একটি শর্ত হল, আপনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া কিস্তির জন্য যোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ, আপনার ই-কেওয়াইসি এবং জমির যাচাইকরণ সম্পন্ন থাকতে হবে। কেন্দ্রের সুবিধার সঙ্গে যোগ্য হলেই দিল্লি সরকারের এই অতিরিক্ত সুবিধা আপনি পাবেন।
কৃষকদের জন্য এই ঘোষণার তাৎপর্য
দিল্লির কৃষকদের জন্য এই ঘোষণা একটি বড় পদক্ষেপ। রাজধানী অঞ্চলে কৃষি জমির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও, যে কৃষকরা এখানে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি সরঞ্জাম কেনা, বীজ ও সারের ব্যয় মেটানো এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য এই টাকা তাদের কাজে আসবে। বিশেষ করে, শহরাঞ্চলে কৃষির চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই সুবিধা কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দেবে।
বাংলার কৃষকদের প্রতিক্রিয়া
বাংলার কৃষকরা যদিও এই ঘোষণার আওতায় পড়ছেন না, তবুও তারা এই খবরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলার অনেক কৃষক মনে করছেন, যদি দিল্লি সরকার তাদের কৃষকদের জন্য এমন উদ্যোগ নিতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। একজন কৃষক বলেন, “আমরা বছরে ৬০০০ টাকা পাই, যদি রাজ্য সরকারও অতিরিক্ত কিছু সাহায্য করে, তবে আমাদের কৃষিকাজ আরও সহজ হবে।”
পিএম কিষাণ যোজনার গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় ১২৫ মিলিয়ন কৃষককে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ১১ কোটিরও বেশি কৃষক এই যোজনার সঙ্গে যুক্ত। প্রতি চার মাসে ২০০০ টাকা করে তিনটি কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হয়, যা কৃষকদের আর্থিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। দিল্লির এই নতুন ঘোষণা অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।
কীভাবে যোগ্যতা যাচাই করবেন?
আপনি যদি দিল্লির কৃষক হন এবং এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না তা জানতে চান, তবে পিএম কিষাণের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (pmkisan.gov.in) এ গিয়ে আপনার স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। ‘ফার্মার্স কর্নার’-এ গিয়ে ‘বেনিফিসিয়ারি লিস্ট’ অপশনে ক্লিক করে আপনার রাজ্য, জেলা, উপজেলা এবং গ্রাম নির্বাচন করে দেখে নিন আপনার নাম তালিকায় আছে কি না। এছাড়া, আপনার ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন কি না তাও যাচাই করুন।
দিল্লির কৃষকদের জন্য এই নতুন ঘোষণা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। বছরে ৬০০০ টাকার পরিবর্তে ৯০০০ টাকা পাওয়ার এই সুবিধা কৃষকদের জীবনে সামান্য হলেও পরিবর্তন আনবে। তবে, এই সুবিধা কবে থেকে কার্যকর হবে এবং এর প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন কৃষকরা। বাংলার কৃষকরাও আশা করছেন, ভবিষ্যতে তাদের রাজ্যেও এমন উদ্যোগ দেখা যাবে।