USAID shutdown: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইউএসএআইডি বন্ধ, চোখের জলে বিদায় কর্মীদের

মার্কিন দেশের প্রধান মানবিক সাহায্য সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (USAID)-এর কর্মীরা গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের সদর দপ্তরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন। তাঁরা তাঁদের ...

By Rana Das

Published:

Follow Us
USAID Workers Leave HQ as Trump Slashes Foreign Aid by 92 Percent

মার্কিন দেশের প্রধান মানবিক সাহায্য সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (USAID)-এর কর্মীরা গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের সদর দপ্তরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন। তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংগ্রহ করে ডেস্ক খালি করেছেন। এই ঘটনার একদিন আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা করেছিল যে, তারা সংস্থার ৯০ শতাংশেরও বেশি সাহায্য চুক্তি বাতিল করছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে ইউএসএআইডি-এর কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, যার মধ্যে জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং বিশ্বব্যাপী মানবিক ত্রাণ প্রচেষ্টায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি অন্তর্ভুক্ত।

ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে সমস্ত বিদেশি সাহায্যে ৯০ দিনের জন্য বিরতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হল মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলি তাঁর “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করা। এই আদেশের পর “স্টপ ওয়ার্ক” নির্দেশ জারি করা হয়, যা ইউএসএআইডি-কে চরম অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দেয়। ফলে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সংস্থার কার্যক্রম থমকে যায়। ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টা এবং বিলিয়নেয়ার এলন মাস্ককে এই সংস্থাটি ভেঙে ফেলার দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁরা দুজনেই এই সাহায্যকে অপচয় এবং তহবিলের অপব্যবহার বলে সমালোচনা করেছেন। এই পদক্ষেপকে ফেডারেল সরকারের আকার কমানোর একটি অভূতপূর্ব প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

   

কর্মীদের বিদায় ও জনগণের সমর্থন
ইউএসএআইডি-এর হাজার হাজার কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের চাকরি বাতিল করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের সদর দপ্তরে প্রবেশে তাঁদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যাঁদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগেরই পুনর্বহালের সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার কর্মীরা যখন সদর দপ্তর থেকে কার্ডবোর্ডের বাক্সে তাঁদের জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন প্রায় ৮০ জন মানুষ—সহকর্মী এবং সাধারণ জনগণ—তাঁদের সমর্থন জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁরা করতালি দিয়ে এবং উৎসাহের শব্দে বিদায় জানান।

একটি আট বছরের মেয়ে তার বাবার জন্য হাতে তৈরি একটি সাইন ধরেছিল, যাতে লেখা ছিল, “আমি তোমার জন্য গর্বিত, বাবা।” তার বাবা ৩০ বছর ধরে ইউএসএআইডি-তে কাজ করেছেন এবং সেদিন তিনি তাঁর কিউবিকল খালি করছিলেন। মেয়েটির হাতে একটি মার্কিন পতাকাও ছিল। তার মা, যিনি একটি ছাতার নীচে হালকা গুঁড়ি বৃষ্টি থেকে নিজেকে ও মেয়েকে রক্ষা করছিলেন, পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “প্রতিশোধের ভয়ে আমরা আমাদের পরিচয় দিতে চাই না। ৩০ বছর দেশের সেবা করার পর আমাদের অপরাধী বলা হচ্ছে, আমরা এখনও এটা মেনে নিতে পারছি না।”

৬১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা স্টিফেন্স, যিনি ২০০৮ সাল থেকে ইউএসএআইডি-এর যোগাযোগ বিভাগে কাজ করছেন, বলেন, “এটা কর্মীদের জন্য একটি আবেগপ্রবণ এবং দুঃখজনক দিন। নতুন প্রশাসন এলে পরিবর্তন হয়, এটা আমরা জানতাম। কিন্তু পুরো সংস্থাটি ভেঙে ফেলা হবে, এটা আমরা কল্পনাও করিনি। আমার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, জানি না।”

কাটছাঁটের পরিমাণ ও প্রভাব
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বুধবার জানিয়েছেন, ইউএসএআইডি ৬,২০০টি বহুবর্ষীয় পুরস্কার পর্যালোচনা করেছে এবং তার মধ্যে প্রায় ৫,৮০০টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কাটছাঁটের মোট মূল্য ৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা ৯২ শতাংশ হ্রাসের সমান। মুখপাত্র আরও বলেন, একজন ফেডারেল বিচারকের হস্তক্ষেপে ট্রাম্প প্রশাসনকে হিমায়িত তহবিল মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা সম্পন্ন করে। তবে, বুধবার রাতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই আদেশ স্থগিত করেন।

ইউএসএআইডি-এর ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের বিদেশি সহায়তার পরিচালক পিট মারোকো একটি আদালতের নথিতে বলেছেন, মূল আদেশের সময়সীমার মধ্যে অর্থ পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন হতো। মুখপাত্র জানান, খাদ্য সহায়তা, এইচআইভি-এর জন্য জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার মতো অত্যাবশ্যকীয় পুরস্কারগুলি বজায় রাখা হয়েছে।

তবে, দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি বড় মার্কিন-অর্থায়িত এইচআইভি/এইডস প্রোগ্রামের তিনজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের অর্থায়ন পুনরায় শুরু হবে না। একটি বৈশ্বিক অলাভজনক সংস্থা, যারা ম্যালেরিয়া এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে, তাদের বেশিরভাগ চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে। রয়টার্সের পর্যালোচিত নথি অনুসারে, ইউএনএইডিএস-এর সঙ্গে ইউএসএআইডি-এর চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও সমালোচনা
ইউএসএআইডি বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে মানবিক ও উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা করে। এই কাটছাঁটের ফলে এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া, এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায়, যেখানে প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ এইচআইভি-তে আক্রান্ত, মার্কিন সাহায্যে পরিচালিত প্রোগ্রামগুলি এখন সংকটে। এই দেশে মোট ২৩০ কোটি ডলারের এইচআইভি প্রোগ্রামের ১৭ শতাংশ মার্কিন তহবিলে চলে। এই অর্থায়ন বন্ধ হলে পুরো প্রোগ্রামটি বিপদে পড়তে পারে।

ট্রাম্প ও মাস্কের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ইউএসএআইডি একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এটি বন্ধ করা যায় না। সমর্থকরা যুক্তি দেন, এই সংস্থা রাশিয়া, চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রভাব মোকাবিলায় এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

ইউএসএআইডি-এর এই সমাপ্তি বিশ্বব্যাপী মানবিক ত্রাণে গভীর প্রভাব ফেলবে। কর্মীদের বিদায়ের দৃশ্য এবং তাঁদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এই সিদ্ধান্তের মানবিক মূল্য তুলে ধরেছে।

 

ভিডিও নিউজ দেখুন

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google