নেতানিয়াহুর সঙ্গে ককটেল, সোনালী মূর্তি! ট্রাম্পের ভবিষ্যত গাজার রূপকল্পনায় বিতর্কের ঝড়

ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং সেখানে উন্নয়ন…

ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং সেখানে উন্নয়ন কাজ শুরু করবে৷ যা পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের ‘রিভিয়েরা’ হয়ে উঠবে। এই ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যে, ট্রাম্প তাঁর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন, যা ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে৷ 

ভিডিয়োটির শুরুতেই গাজার ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য দেখানো হয়, যেখানে “Gaza 2025” লেখা ফুটে ওঠে। এরপর, গাজাকে একটি আধুনিক ও বিলাসবহুল শহরে রূপান্তরিত হতে দেখা যায়, যেখানে রয়েছে ট্রাম্পের বিশাল উঁচু সোনালী রঙের এক মূর্তি, বহুতল বিল্ডিং, ঝকঝকে সৈকত এবং অত্যাধুনিক হোটেল। ভিডিয়োতে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে শর্টস পরে পুলের পাশে সূর্যের আলো উপভোগ করতেও দেখা গিয়েছে। তাঁদের হাতে রয়েছে ককটেল৷ এছাড়াও, ওই ভিডিয়োতে ইলন মাস্ককে ডিনার করতে দেখা এবং কিছু মানুষকে বিকিনি পরা অবস্থায় আনন্দে নাচতে দেখা গিয়েছে৷ এছাড়াও, সেখানে একটি শিশুকে ট্রাম্পের মুখসহ সোনালী বেলুন হাতে দেখা যায়৷ দেখা যায় সৈকতে ইয়ট ভাসছে এবং কিছু শিশু টাকা কুড়িয়ে নিচ্ছে। 

   

ভিডিয়োটির পটভূমিতে একটি গান বাজছে, যার কথায় বলা হচ্ছে, “ট্রাম্প গাজা আসছে, সোনালী ভবিষ্যৎ, নতুন জীবন।” এই ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এই ভিডিওকে অত্যন্ত অশালীন এবং গাজার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রতি অবজ্ঞাস্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন।

ট্রাম্প গত ৪ ফেব্রুয়ারি, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এটি হামাস মুক্ত হবে। তারপর, গাজার উন্নয়ন শুরু হবে এবং সেখানকার মানুষ নতুনভাবে জীবন শুরু করবে।” যদিও, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে, বিশেষ করে আরব বিশ্বে।

বিশ্বব্যাপী সমালোচনা শোনার পর, ট্রাম্প বলেন, “এটা কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, আমি শুধু একটি পরামর্শ দিয়েছি। আমি কাউকে চাপ দিচ্ছি না, কিন্তু আমার পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে সবচেয়ে কার্যকরী হবে।”

এছাড়া, ট্রাম্প তার প্রশাসনে আরও কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন, যেমন ‘গালফ অব মেক্সিকো’-র নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন৷

এই ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বহু ইউজার ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, “গাজা বিক্রি করার জন্য নয়, এটি ফিলিস্তিনিদের জমি।” কেউ কেউ ভিডিয়োটিকে “অত্যন্ত আপত্তিকর” এবং “অসংবেদনশীল” বলে মন্তব্য করেছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা আসলেই অত্যন্ত অবমাননাকর।”