মন্দির-গুরুদুয়ার পুনর্নির্মাণ ‘মাস্টার প্ল্যানে’ ১ বিলিয়ন টাকা খরচ করতে প্রস্তুত পাকিস্তান

পাকিস্তান (Pakistan) সরকার দেশের মন্দির এবং গুরুদুয়ারগুলির পুনর্নির্মাণ এবং সৌন্দর্যবর্ধন করার জন্য একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করেছে, যার জন্য মোট ১ বিলিয়ন পকিস্তানি রুপি (PKR) খরচ করা হবে। ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Pakistan Master Plan for Renovating Temples and Gurudwaras

পাকিস্তান (Pakistan) সরকার দেশের মন্দির এবং গুরুদুয়ারগুলির পুনর্নির্মাণ এবং সৌন্দর্যবর্ধন করার জন্য একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করেছে, যার জন্য মোট ১ বিলিয়ন পকিস্তানি রুপি (PKR) খরচ করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি গত শনিবার পাকিস্তানের ইভাকুয়ি ট্রাস্ট প্রপারটি বোর্ড (ETPB) এর একটি বৈঠকে নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেছিলেন সাইয়েদ আত্তাউর রহমান।

এই ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর আওতায়, দেশের বিভিন্ন মন্দির এবং গুরুদুয়ার পুনর্নির্মাণ এবং সাজানো হবে, যা পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাইয়েদ আত্তাউর রহমান বৈঠকে জানান, “এই পরিকল্পনার অধীনে মন্দির এবং গুরুদুয়ারগুলি সাজানো হবে এবং উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে, যার জন্য এক বিলিয়ন পকিস্তানি রুপি বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।”

   

তিনি আরও জানান, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূজা স্থলগুলির উন্নয়নে এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ।” প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইভাকুয়ি ট্রাস্ট প্রপারটি বোর্ড এই বছর এক বিলিয়ন রুপি আয় করেছে। এই বৈঠকে পাকিস্তানের হিন্দু এবং শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, পাশাপাশি সরকারি এবং বেসরকারি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইভাকুয়ি ট্রাস্ট প্রপারটি বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ ইকবাল সভায় উপস্থিত সদস্যদের বলেন, “ETPB এর উন্নয়ন প্রকল্পটি নতুন করে সংশোধন করার প্রয়োজন। এখন যে সকল ট্রাস্ট সম্পত্তি উন্নয়নের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেগুলি পূর্বে ব্যবহার করা হয়নি।”

ফরিদ ইকবাল আরও বলেন, “এই জমিগুলিকে উন্নয়নের জন্য দেওয়া হলে, তা বোর্ডের আয় বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।” এটি বোঝায় যে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা এসব জমিকে নতুনভাবে ব্যবহার করা হবে এবং তা সরকারের আয় বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে।

এই বৈঠকে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থান থেকে উপস্থিত হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানের উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা সম্পর্কে। সরকারের এই পদক্ষেপে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থানগুলির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মাস্টার প্ল্যানের বিশদ বিবরণ
এই ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর আওতায়, পাকিস্তানের বিভিন্ন মন্দির এবং গুরুদুয়ার পূর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। এই কাজের মধ্যে থাকবে:
মন্দির এবং গুরুদুয়ার ভবনগুলির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ।
ধর্মীয় স্থলগুলির আশেপাশের পরিবেশের সৌন্দর্যবর্ধন।
বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করা।
শিখ গুরুদুয়ার এবং হিন্দু মন্দিরগুলির ভিতরে ও বাইরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

পাকিস্তানের সরকার আশা করছে যে এই প্রকল্পটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানাবে এবং ধর্মীয় স্থলগুলির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সাহায্য করবে। এটি সেই সমস্ত ধর্মীয় স্থানগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল।

কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং অন্যান্য সিদ্ধান্ত
ইভাকুয়ি ট্রাস্ট প্রপারটি বোর্ডের প্রধান সাইয়েদ আত্তাউর রহমান এই বৈঠকে আরও জানান যে, একটি প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হবে, যিনি মন্দির এবং গুরুদুয়ার উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণ কাজ তত্ত্বাবধান করবেন। এছাড়া, কার্তারপুর করিডরের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটে অপারেশনাল কাজের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত সরকারী কর্মকর্তারা এই প্রকল্পটির জন্য যথাযথ তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সরকারের সঠিক পরিকল্পনা এবং উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলি ধর্মীয় স্থলগুলির অবস্থা উন্নত করবে এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও একাত্মতা
এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থলগুলির পুনর্নির্মাণের জন্য নয়, বরং পাকিস্তানে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি এবং একাত্মতা প্রতিষ্ঠার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার আশা করছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হিন্দু, শিখ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় স্থানে শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করবেন, যা পাকিস্তানের সামাজিক ও ধর্মীয় ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে।

নতুন আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা
ফরিদ ইকবাল আরও জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইভাকুয়ি ট্রাস্ট প্রপারটি বোর্ডের আয় অনেক বেড়ে যাবে, কারণ বহু জমি যা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ছিল, তা এখন উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, “এই জমিগুলিকে পুনঃব্যবহার করার মাধ্যমে বোর্ডের আয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের উন্নয়নেও সহায়ক হবে।”

পাকিস্তান সরকারের এই উদ্যোগটি মন্দির ও গুরুদুয়ারগুলির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় গুরুত্ব রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google