‘বিজেপি হ্যাঁ বললেই তৃণমূল শেষ!’ ২০ সাংসদ ও ৫০ বিধায়ক তৈরি! বিস্ফোরক সৌমিত্র

কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হতেই চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ভাঙনের ফাটল। বুধবার মেগা বোমা ফাটিয়ে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দাবি করেন, “বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একবার ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us

কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হতেই চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ভাঙনের ফাটল। বুধবার মেগা বোমা ফাটিয়ে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দাবি করেন, “বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একবার সবুজ সংকেত দিলে তৃণমূল আর রাজনৈতিক দল হিসেবে টিঁকে থাকবে না। সবাই চলে আসতে তৈরি। প্রায় ৫০ জন বিধায়ক দলের ওপর ক্ষুব্ধ এবং ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত।” উল্লেখ্য, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে অন্তত ২০ জন সাংসদেরই প্রয়োজন, তাই সৌমিত্রর এই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাতত্ত্বকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। (20 mps 50 mlas ready to join bjp)

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে সৌমিত্র বলেন, “উনি একজন পাপী, আর পাপীদের জেলে যেতেই হবে। আজ ওঁর বাড়ির সামনে বুলডোজার দাঁড়িয়ে আছে। ২০২১ সালে উনি বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভেঙেছিলেন, আজ পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে।” যদিও এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।

   

কাকলির ‘ওয়াই’ নিরাপত্তা ও দলনেত্রীর আরজি

তৃণমূলের এই নজিরবিহীন অস্থিরতার আগুনে ঘি ঢেলেছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি পদক্ষেপ। সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের (Chief Whip) পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন একটি বৈঠকে বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে যোগ দেন কাকলি। এর পরপরই কেন্দ্রের তরফে তাঁকে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য মাত্রা নিয়েছে। অন্যদিকে, পুরবোর্ডগুলির ধস রুখতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের ইস্তফা না দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য আরজি জানিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে খবর।

পৌরসভায় গণ-ইস্তফার সুনামি ও শুভেন্দুর ‘অ্যাকশন’

রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিগত জমানার পৌরসভাগুলির আর্থিক অনিয়মের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। এরপরই দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গত সপ্তাহে ৩ জন কাউন্সিলর গ্রেফতার হতেই রাজ্যজুড়ে পুরবোর্ডগুলিতে গণ-ইস্তফার ধুম লেগেছে। বিভিন্ন পুরসভা থেকে প্রায় ১০০ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, যেখানে কাউন্সিলররা অনুপস্থিত থাকছেন, সেখানে সরকারি প্রশাসক বসানো হচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google