হাতে আর সময় নেই! ভিডিও বার্তায় উদ্বিগ্ন জেলেনস্কি

আজ, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Zelensky)গম্ভীর স্বরে আবারও সতর্ক করেছেন রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের, অর্থাৎ ম্যাসিভ অ্যাটাক চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউক্রেনীয়…

zelensky-warns-massive-russian-attack-ukraine

আজ, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Zelensky)গম্ভীর স্বরে আবারও সতর্ক করেছেন রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের, অর্থাৎ ম্যাসিভ অ্যাটাক চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি বলেছেন, এই আক্রমণ আসন্ন দিনগুলোতেই হতে পারে। রাশিয়া ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ক্লান্ত করে দিতে চাইছে, তারপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে মারাত্মক আঘাত হানতে চাইছে।

Advertisements

আর এই সময়ে তারা শীতের তীব্র ঠান্ডাকে কাজে লাগাতে চাইছে যাতে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষকে অন্ধকার ও ঠান্ডায় কষ্ট দিতে পারে।জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলছি এয়ার ডিফেন্সের জন্য মিসাইল, যে সিস্টেমগুলো আমাদের এতটা দরকার। কিন্তু সাপ্লাই যথেষ্ট নয়। আমরা চেষ্টা করছি সবকিছু তাড়াতাড়ি করতে, আর এটা খুবই জরুরি যে আমাদের পার্টনাররা আমাদের কথা শোনেন।”

   

সেরা গোয়েন্দা সংস্থার নিরিখে প্রথমে নেই মোসাদ! RAW কত নম্বরে

এই কথাগুলো তিনি বলেছেন চেক প্রেসিডেন্ট পেট্র পাভেলের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আজ সকাল পর্যন্ত কয়েকটা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে একদম মিসাইল ছিল না এমন অবস্থা। কিন্তু সৌভাগ্যবশত, সকালে একটা “সিরিয়াস প্যাকেজ” মিসাইল এসে পৌঁছেছে। তবুও তিনি বারবার জোর দিয়ে বলছেন এটা যথেষ্ট নয়। পার্টনার দেশগুলোর ওয়্যারহাউজে অনেক মিসাইল পড়ে আছে, যা শুধু জমা হয়ে রয়েছে।

সেগুলো দ্রুত ইউক্রেনে পাঠানো দরকার।এই সতর্কবার্তা নতুন নয়, কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর। জানুয়ারির শুরু থেকেই রাশিয়া একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছে। ৮-৯ জানুয়ারির রাতে ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে লভিভের একটা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্ল্যান্টে আঘাত করেছে। ১২-১৩ জানুয়ারির রাতে শত শত শাহেদ ড্রোন ও মিসাইল ছুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো লক্ষ্য করেছে।

ওডেসায় দুটো পাওয়ার প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাজার হাজার পরিবার অন্ধকারে পড়েছে। খারকিভে পোস্টাল টার্মিনালে আঘাতে চারজন নিরীহ মানুষ মারা গেছে। এই শীতকালে রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে এনার্জি সেক্টরকে টার্গেট করছে, যাতে ইউক্রেনের মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে।ইউক্রেনের এয়ার ফোর্স ও গোয়েন্দা বিভাগ জানাচ্ছে, রাশিয়া নতুন ধরনের ড্রোন যেমন ‘গেরান-৫’ ব্যবহার করছে, যা এয়ার ডিফেন্সের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ফাইটার জেটকেও লক্ষ্য করতে পারে।

এতে প্যাট্রিয়ট, আইরিস-টি বা অন্যান্য সিস্টেমের উপর চাপ আরও বাড়ছে। জেলেনস্কি বলছেন, লঞ্চার যতই থাকুক, মিসাইল ছাড়া সেগুলো অকেজো। তাই কনস্ট্যান্ট মিসাইল প্যাকেজ দরকার যা নিয়মিত আসতে হবে।এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন ন্যাটো ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বারবার আবেদন করছে।

প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেনিয়ান রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট (PURL) প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমেরিকান অস্ত্র কেনার জন্য ন্যাটো দেশগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জেলেনস্কি বলেছেন, অনেক কিছু হচ্ছে ডিফেন্স মিনিস্ট্রির লেভেলে, কিন্তু গতি বাড়ানো দরকার। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন ইউক্রেনকে শুধু কথায় নয়, কাজে সম্মান করতে হবে।

Advertisements