
লন্ডন/মুম্বই: অক্সফোর্ড ইউনিয়ন—বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিতর্ক মঞ্চে আবারও একবার ভারত বনাম পাকিস্তান দ্বৈরথ। তবে এবারের লড়াইয়ে জয়ী হিসেবে উঠে এসেছেন এক ভারতীয় তরুণ। পাকিস্তানের ফেডারেল প্রতিরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রীর ছেলে মুসা হাররাজকে বিতর্কের মঞ্চেই কড়া জবাবে নাস্তানাবুদ করলেন মুম্বইয়ের ভিরাংশ ভানুশালি।
বিতর্কের বিষয় ও প্রেক্ষাপট
বিতর্কের মূল বিষয় ছিল: ‘ভারত কি নিরাপত্তার নামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সস্তা জনমোহিনী (populism) রাজনীতি করছে?’ পাকিস্তানি পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভারত নির্বাচনের স্বার্থে পাকিস্তানকে শত্রু হিসেবে দেখায়। কিন্তু পালটা বক্তব্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ভিরাংশ ভানুশালি প্রমাণ করে দিলেন যে ভারতের নীতি কোনো রাজনীতি নয়, বরং আত্মরক্ষা।
২৬/১১-এর ক্ষত এবং ভিরাংশের হুঙ্কার
ভিরাংশ তার বক্তব্য শুরু করেন ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বই হামলার স্মৃতি দিয়ে। তিনি বলেন, “সেদিন কাসাবরা যখন সিএসএমটি (CSMT) স্টেশনে তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তার ঠিক ২০০ মিটার দূরে ছিল আমাদের বাড়ি। আমার মা-বাবার চোখে সেই আতঙ্ক আমি ভুলিনি। ১৬৬ জন নিরপরাধ মানুষের রক্ত সেদিন মুম্বইয়ের রাস্তায় বয়ে গিয়েছিল। যারা বলেন ভারতের নীতি জনমোহিনী, তাদের জানিয়ে রাখি—দরজায় তালা লাগানোটা কেবল দেখানোর জন্য নয়, ওটা দেওয়া হয় কারণ এলাকায় ডাকাত রয়েছে।”
“তর্ক নয়, একটা ক্যালেন্ডারই যথেষ্ট”
পাকিস্তানকে আক্রমণ করে ভিরাংশ বলেন, “পাকিস্তানকে হারাতে আমার কোনও বাগাড়ম্বরের প্রয়োজন নেই, একটা ক্যালেন্ডারই যথেষ্ট।” তিনি ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে উরি, পাঠানকোট এবং পুলওয়ামা হামলার টাইমলাইন তুলে ধরেন। তিনি প্রমাণ করেন যে, ভারতে যখন কোনও নির্বাচন ছিল না, তখনও পাকিস্তান-প্ররোচিত জঙ্গিরা ভারতে রক্তপাত ঘটিয়েছে।
পাকিস্তানের অবস্থাকে ‘সার্কাস’ বলে কটাক্ষ
ভিরাংশ তার বক্তব্যে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আপনারা নিজেদের দেশের মানুষকে রুটি দিতে পারছেন না, তাই সার্কাস উপহার দিচ্ছেন। ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে আপনারা দারিদ্র্য আড়াল করার চেষ্টা করছেন।” অপারেশন সিন্দুর-এর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারত চাইলে দখলদারি করতে পারত, কিন্তু ভারত শুধু তার নাগরিকদের রক্ষার্থে নির্দিষ্ট লঞ্চপ্যাডগুলি ধ্বংস করেছে। এটা রাজনীতি নয়, পেশাদারিত্ব।
পাক মন্ত্রীর ছেলের ‘চক্রান্ত’ ব্যর্থ
উল্লেখ্য, এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুসা হাররাজ (যিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে) চক্রান্ত করে ভারতীয় বক্তাদের শেষ মুহূর্তে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন যাতে তারা যোগ দিতে না পারেন। আইনজীবী জে সাই দীপক এবং শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এই নিয়ে সরবও হয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত বিতর্কের মঞ্চে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ভিরাংশ ভানুশালি পাকিস্তানের সেই ষড়যন্ত্রের যোগ্য জবাব দিলেন।
ভিরাংশের এই বক্তব্যের ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নেটদুনিয়ায় তাকে ‘হিরো’ হিসেবে অভিহিত করছেন ভারতীয়রা। নেটিজেনদের দাবি, একা হাতেই তিনি বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী মুখটা আবারও বিশ্বের সামনে উন্মোচন করলেন।




