মধ্যপ্রাচ্যে ISIS দমনে বড় পদক্ষেপ আমেরিকার

মধ্যপ্রাচ্যে আইএসআইএস দমনে আরও এক ধাপ এগোল আমেরিকা (ISIS)। নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং জঙ্গিদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সিরিয়া থেকে আইএসআইএস বন্দিদের ইরাকে স্থানান্তরের একটি নতুন অভিযান…

us-centcom-transfers-isis-detainees-syria-to-iraq

মধ্যপ্রাচ্যে আইএসআইএস দমনে আরও এক ধাপ এগোল আমেরিকা (ISIS)। নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং জঙ্গিদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সিরিয়া থেকে আইএসআইএস বন্দিদের ইরাকে স্থানান্তরের একটি নতুন অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে এই বিশেষ মিশন কার্যকর হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য আইএসআইএস জঙ্গিদের আরও সুরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত বন্দিশিবিরে রাখা।

Advertisements

ফ্লোরিডার ট্যাম্পা থেকে প্রকাশিত সেন্টকমের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযানের প্রথম ধাপে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার হাসাকা (Hasakah) অঞ্চলের একটি ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি থেকে ১৫০ জন আইএসআইএস যোদ্ধাকে নিরাপদে ইরাকের একটি সুরক্ষিত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সামরিক সূত্রের মতে, এই স্থানান্তর অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন না ঘটে।

   

শিক্ষক থেকে আবাসন ইডির দেওয়া জীবনকৃষ্ণের খতিয়ানে অবাক হবেন

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সিরিয়া থেকে প্রায় ৭,০০০ আইএসআইএস বন্দিকে ধাপে ধাপে ইরাক-নিয়ন্ত্রিত ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বন্দিশিবিরগুলির উপর বাড়তে থাকা চাপ এবং সেখানে সম্ভাব্য ‘জেলব্রেক’-এর আশঙ্কা।

এই প্রসঙ্গে সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, “আমরা ইরাক সরকারসহ আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছি। আইএসআইএস-এর স্থায়ী পরাজয় নিশ্চিত করতে তাঁদের ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। জঙ্গিদের সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ কোনও বন্দি পালিয়ে গেলে তা শুধু অঞ্চল নয়, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই আইএসআইএস বন্দিদের রাখার বিষয়টি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত এই শিবিরগুলিতে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। অতীতে একাধিকবার সেখানে হামলা ও পালানোর চেষ্টা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ইরাকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। দেশটি ইতিমধ্যেই বহু আইএসআইএস বন্দিকে ধরে রেখেছে এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট উচ্চ-নিরাপত্তা ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, ইরাকের সঙ্গে যৌথভাবে এই বন্দিদের দেখভাল করা অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই আমেরিকা ও তাদের মিত্র বাহিনী সিরিয়ায় ৩০০-র বেশি আইএসআইএস সদস্যকে আটক করেছে এবং একই সময়ে ২০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও আইএসআইএস-এর তথাকথিত খেলাফত বহু আগেই ভেঙে পড়েছে, তবুও সংগঠনটি এখনও বিচ্ছিন্ন হামলা ও গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই বন্দি স্থানান্তর অভিযান আইএসআইএস-এর সংগঠনিক ক্ষমতা ভাঙার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বন্দিরা যদি এক জায়গায় অনিরাপদ অবস্থায় থাকে, তাহলে সেখান থেকে বিদ্রোহ, পালানো বা পুনর্গঠনের ঝুঁকি থেকেই যায়। সেই ঝুঁকি কমাতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

Advertisements