লন্ডনের হাউস অব কমন্সে সাম্প্রতিক এক বিতর্ক যেন আবেগের ঝড় তুলেছে (UK ban on cousin marriage)। কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ রিচার্ড হোল্ডেনের প্রস্তাবিত বিলে প্রথম কাজিনদের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যাকে অনেকে জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে সমর্থন করছেন। কিন্তু ইন্ডিপেন্ডেন্ট সাংসদ ইকবাল মোহামেদ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেই রীতিমত বিশ্বজুড়ে হাস্যস্পদ হয়েছেন ইকবাল।
গুজরাটি বংশোদ্ভূত এই সাংসদ, যিনি ডিউসবারি অ্যান্ড ব্যাটলি থেকে নির্বাচিত, বলেছেন যে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কমিউনিটিগুলোকে স্টিগমাটাইজ করবে এবং এটি অকার্যকর হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অনেক সাধারণ মানুষের কাছে ফ্যামিলি ইন্টারম্যারেজ খুবই পজিটিভ, এটি ফ্যামিলি বন্ডস গড়ে তোলে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা দেয়।”এই বিতর্ক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়, যখন হোল্ডেন তার টেন মিনিট রুল বিল পেশ করেন।
বাংলাদেশে হত্যার ঘটনায় কলকাতায় রাজনৈতিক বিক্ষোভ, জামিন ১২ জনের
তিনি যুক্তি দেন যে প্রথম কাজিন বিয়ের ফলে সন্তানদের জেনেটিক ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি বাড়ে যেমন রিসেসিভ জিনের কারণে বিভিন্ন অসুখ। ব্রিটেনে বিশেষ করে পাকিস্তানি এবং দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটিতে এই প্রথা সাধারণ, যেখানে ২০-৪০ শতাংশ বিয়ে এমন হয়। হোল্ডেনের মতে, এটি শুধু স্বাস্থ্যের সমস্যা নয়, মহিলাদের স্বাধীনতা এবং ফোর্সড ম্যারেজের সঙ্গেও জড়িত।
বিলটির সেকেন্ড রিডিং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হয়েছে, কিন্তু সরকারি সমর্থন না থাকলে এটি আইনে পরিণত হওয়া কঠিন।ইকবাল মোহামেদ তার বক্তব্যে স্বীকার করেছেন যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে শিক্ষা এবং জেনেটিক টেস্টিংয়ের পক্ষে বলেছেন। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় এই প্রথা অত্যন্ত সাধারণ।
আমাদের অন্য সংস্কৃতির জুতোয় দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।” তার এই আবেগপূর্ণ বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, অনেকে এটিকে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার উদাহরণ বলছেন, আবার অনেকে সমালোচনা করছেন যে স্বাস্থ্য এবং মহিলা নিরাপত্তাকে ‘কালচার’ বলে ব্লক করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে ইসলামোফোবিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করেছেন, যদিও মোহামেদ নিজে সরাসরি সেই শব্দ ব্যবহার করেননি ক্যাম্পেইনাররা বিলটিকে ‘হেট ইনসাইটিং’ বলে অভিহিত করেছেন।
এই বিতর্ক ব্রিটেনের মাল্টিকালচারাল সমাজের গভীর ফাটল তুলে ধরেছে। একদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজিন ম্যারেজের ফলে জন্মগত অসুখের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়, যা এনএইচএস-এর উপর চাপ ফেলে। অন্যদিকে, আহমাদিয়া মুসলিম কমিউনিটি বলছে যে নিষেধাজ্ঞা ফান্ডামেন্টাল ফ্রিডম কেড়ে নেবে এবং কমিউনিটিকে স্টিগমাটাইজ করবে।
মোহামেদের মতো নেতারা বলছেন, ফোর্সড ম্যারেজের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, কিন্তু স্বেচ্ছায় বিয়েকে নিষিদ্ধ করা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে অন্যান্য ঝুঁকি যেমন বয়স্ক মায়ের সন্তান বা ধূমপান এর জন্য তো নিষেধাজ্ঞা নেই।


