নাশকতার ছক ভেস্তে দিয়ে পাক ঘনিষ্ট দেশে গ্রেফতার ১১৫ ISIS জঙ্গি

বড়দিন ও নববর্ষের আগে সম্ভাব্য ভয়াবহ নাশকতার ছক ভেস্তে (ISIS militants arrested)দিল তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানে কট্টরপন্থী জঙ্গি সংগঠন ISIS-এর সঙ্গে যুক্ত…

turkey-arrests-115-isis-militants-terror-plot-foiled

বড়দিন ও নববর্ষের আগে সম্ভাব্য ভয়াবহ নাশকতার ছক ভেস্তে (ISIS militants arrested)দিল তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানে কট্টরপন্থী জঙ্গি সংগঠন ISIS-এর সঙ্গে যুক্ত ১১৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রে জানানো হয়েছে, এই জঙ্গিরা উৎসবের সময় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা গিয়েছিল।

Advertisements

তুরস্কের একাধিক প্রদেশে একযোগে চালানো এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে। এই নথিগুলির মধ্যে ছিল সম্ভাব্য টার্গেট, সাংগঠনিক যোগাযোগের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত দলিল। প্রশাসনের মতে, এগুলি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে পরিকল্পনাটি ছিল সুসংগঠিত এবং বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছিল।

   

নৈহাটিতে নাটকীয় লড়াই, গোলশূন্য প্রথমার্ধে নর্থ বনাম সুন্দরবন

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে তুরস্কের বিভিন্ন শহরে উৎসব, পর্যটন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ার কথা ছিল। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছিল জঙ্গিরা। বিশেষ করে ইস্তানবুল, আঙ্কারা এবং পর্যটনপ্রধান কয়েকটি এলাকাকে টার্গেট করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি নিরাপত্তা সংস্থার।

এই অভিযানের পরও নিরাপত্তা তৎপরতা থামেনি। তুর্কি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও ২২ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি পলাতক, যারা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ধর্মীয় উৎসব বা আনন্দের সময় সন্ত্রাসবাদীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গেও তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে, যাতে এই ধরনের জঙ্গি নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়।

উল্লেখ্য, তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে চলছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে থাকা এই দেশটি অতীতে একাধিক জঙ্গি হামলার মুখোমুখি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযানে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতারি শুধু তুরস্কের জন্য নয়, গোটা ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উৎসবের সময় পর্যটকদের ভিড় থাকায় হামলা হলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক স্তরেও পড়তে পারত। আগেভাগেই নাশকতার ছক ভেস্তে যাওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তবে একই সঙ্গে তাঁরা সতর্ক করছেন, ISIS-এর মতো সংগঠন সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট স্লিপার সেল এখনও সক্রিয় থাকতে পারে। তাই এই সাফল্যের পরেও নজরদারি শিথিল না করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, বড়দিন ও নববর্ষের আনন্দের মুহূর্তে তুরস্কে সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী হামলা রুখে দেওয়া একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। সাধারণ মানুষের স্বস্তির নিঃশ্বাসের পাশাপাশি এই অভিযান ফের মনে করিয়ে দিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

Advertisements