কাবুল: নতুন বছরের প্রথম দিনেই পাকিস্তানকে চাঞ্চল্যকর (TTP attack)‘উপহার’ দিল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু ক্যান্টনমেন্টে একটি শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে সেনা শিবিরের কাছাকাছি তাঁবু এবং সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই হামলাকে টিটিপি’র পক্ষ থেকে নতুন বছরের ‘গিফট’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।বান্নু ক্যান্টনমেন্ট পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, যা আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এখানে পাকিস্তান আর্মির ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারসহ একাধিক ইউনিট মোতায়েন রয়েছে।
আঁধারের মাঝেও আলো দেখিয়ে ফিফার তালিকায় বাড়ল ভারতীয় রেফারির সংখ্যা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই এলাকা টিটিপি’র হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে একাধিকবার বান্নুতে সুইসাইড বোমিং, ড্রোন অ্যাটাক এবং বিস্ফোরকযান হামলা হয়েছে। কিন্তু এবারের মিসাইল স্ট্রাইকটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সূত্রগুলো বলছে, হামলাটি সম্ভবত রকেট বা মিসাইলের মাধ্যমে চালানো হয়েছে, যা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরীণ এলাকায় আঘাত হেনেছে।
ফলে সেনা তাঁবু ছিঁড়ে গেছে, যানবাহন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসপিআর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে সেনাবাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। টিটিপি’র এই হামলার পেছনে তাদের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক পরিবর্তনের ছায়া দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে টিটিপি তাদের নতুন স্ট্রাকচার ঘোষণা করেছে, যেখানে ‘এয়ার ফোর্স ইউনিট’ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
এই ইউনিটটি মূলত ড্রোন এবং মিসাইলভিত্তিক অপারেশনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পুরোপুরি অপারেশনাল হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন বছরের হামলা সেই পরিকল্পনারই অংশ। টিটিপি নেতৃত্ব এখন আরও উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে চাপে ফেলতে চাইছে। আফগানিস্তান থেকে তাদের সাপোর্ট বাড়ছে বলে পাকিস্তানের অভিযোগ, যদিও কাবুল এটি অস্বীকার করে।
