HomeTop Storiesসেনা কনভয়ে টিটিপি আক্রমণে ১৩ পাকিস্তানি জওয়ান মৃত

সেনা কনভয়ে টিটিপি আক্রমণে ১৩ পাকিস্তানি জওয়ান মৃত

- Advertisement -

পুনরায় অশান্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চল। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) জঙ্গিদের এক আকস্মিক হামলায় (TTP attack) কমপক্ষে ১৩ জন পাকিস্তানি সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজাদ মান্ডি বাজারের কাছে, যেখানে সেনাবাহিনীর একটি কনভয় গুলাম খান সীমান্ত এলাকার দিকে এগোচ্ছিল।

এই হামলা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ক্ষতির একটি, এবং এটি সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

   

🔥 অতর্কিত হামলা, মুহূর্তে ভেঙে পড়ে কনভয়

স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, দুপুরের দিকে আজাদ মান্ডির নিকটবর্তী পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে সেনা কনভয়টি গুলাম খানের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময়, রাস্তার দু’পাশের পাহাড়ি ঢাল ও ঘন জঙ্গল থেকে হঠাৎ শুরু হয় তীব্র গুলিবর্ষণ ও আইইডি বিস্ফোরণ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান— “প্রথমে একটি বড় বিস্ফোরণে কনভয়ের সামনের গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চারদিক থেকে গুলি পড়তে থাকে। সেনারা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন, কিন্তু হামলাটি এতটাই পরিকল্পিত ও দ্রুত ছিল যে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।”

🩸 ১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত, আরও হতাহতের আশঙ্কা

যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে যে কমপক্ষে ১৩ জন সেনা সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের দ্রুত মিরানশাহ ও বান্নুর সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এক নিরাপত্তা আধিকারিক বলেন—

“হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলাটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত ছিল।”

⚠️ TTP-র জঙ্গিরা দায় স্বীকার করেছে

তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এর মুখপাত্র হামলার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে—

  • এটি তাদের ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’-এর অংশ

  • পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক তল্লাশিতে তাদের সদস্য নিহত হওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে

TTP গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে হামলা বাড়িয়েছে, বিশেষত খাইবার পাখতুনখোয়া, ওয়াজিরিস্তান, কুর্রম ও বান্নু অঞ্চলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি বাহিনী যতই অভিযান চালাচ্ছে, জঙ্গিরা নতুন কৌশলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

🚨 অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, এলাকাজুড়ে অভিযান

হামলার পরপরই পাকিস্তান সেনা সদর দপ্তরের নির্দেশে এলাকায় ব্যাপক সুরক্ষা চক্র গড়ে তোলা হয়েছে।

  • বিশেষ কমান্ডো ইউনিট

  • বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

  • ড্রোন নজরদারি

    সবই পাঠানো হয়েছে।

সূত্রের দাবি—জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে গুলাম খান–আজাদ মান্ডি অঞ্চলজুড়ে রাতভর বড়সড় combing operation চলবে।

সামরিক সূত্র থেকে আরও জানা যায়—

“এটি স্পষ্ট যে আক্রমণটি বড়সড় গোয়েন্দা পরিকল্পনার অংশ ছিল। হামলাকারীরা এলাকাটি ভালভাবে চিনত এবং কনভয় কখন পৌঁছাবে তা আগেই জানত।”

📍 গুলাম খান অঞ্চল: বহুদিন ধরেই অশান্ত সীমান্ত পয়েন্ট

গুলাম খান পাকিস্তানের সবচেয়ে সংবেদনশীল সীমান্ত পয়েন্টগুলোর একটি, যা সরাসরি আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের সংযোগস্থলে।

এই পথ দিয়ে—

  • অস্ত্র চোরাচালান

  • জঙ্গিদের যাতায়াত

  • সীমান্তপারের সংঘর্ষ

    —অতীতে বহুবার হয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান অভিযোগ করেছিল যে TTP-র বেশ কয়েকটি দল আফগানিস্তানের ভেতরে আশ্রয় নিচ্ছে এবং সেখান থেকেই পরিকল্পনা করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। যদিও আফগান তালিবান এই দাবি অস্বীকার করেছে।

🧭 পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও প্রশ্নের মুখে

এই হামলার পর বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—

  • পাকিস্তান কি TTP-কে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ?

  • সামরিক কৌশল কি দুর্বল হয়ে পড়ছে?

  • সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পরও জঙ্গিরা কীভাবে এত বড় হামলা চালাতে পারল?

ইসলামাবাদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

“TTP আগের তুলনায় এখন আরও সংগঠিত, আরও বেপরোয়া এবং আরও কৌশলগত।”

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা

১৩ জন সৈন্যের মৃত্যু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মনোবলে বড় আঘাত।

গত কয়েক মাসে এই ধরনের একাধিক হামলা হয়েছে—

  • বান্নুতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত

  • খাইবার এলাকায় তল্লাশির সময় হামলায় ৬ জন নিহত

  • কোহাটে সেনা ট্রাকে হামলায় ৪ জন নিহত

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন—এই ধারাবাহিকতা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের।

উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে

আজাদ মান্ডি–গুলাম খান এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তীব্র।

সেনাবাহিনী বড়সড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পাকিস্তান জুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

TTP–র এই বড় হামলা প্রমাণ করল—পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমন এখনও গভীর সঙ্কটে এবং পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular