Tsunami Warning Issued After 6.9 Magnitude Earthquake in Papua New Guinea
পাপুয়া নিউ গিনির (papua new guinea) উপকূলে শনিবার সকালে ৬.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের পর দেশটির উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৬:০৪ মিনিটে (গ্রিনউইচ মান সময় ২০:০৪) নিউ ব্রিটেন দ্বীপের কাছে সমুদ্রে আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল নিকটতম প্রধান শহর কিম্বে থেকে প্রায় ১৯৪ কিলোমিটার (১২০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে।
ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি মাত্র ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীরতায় সংঘটিত হয়েছে, যা এটিকে একটি অগভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করে। অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত বেশি ক্ষয়ক্ষতি এবং সুনামির ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রাথমিকভাবে ১ থেকে ৩ মিটার উচ্চতার সুনামি তরঙ্গের সম্ভাবনার কথা জানায়। তবে, পরবর্তীতে এই সতর্কতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদিও উপকূলীয় এলাকায় সামান্য সমুদ্রপৃষ্ঠের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাব ও সতর্কতা
পাপুয়া নিউ গিনি (papua new guinea) প্রশান্ত মহাসাগরের “রিং অফ ফায়ার” নামে পরিচিত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং তীব্র ভূ-টেকটনিক কার্যকলাপের জন্য কুখ্যাত। শনিবারের ভূমিকম্পের পরপরই বেশ কয়েকটি ছোট আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যাদের মাত্রা ৪.৯ থেকে ৫.৩-এর মধ্যে ছিল। তবে, এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সুনামি সতর্কতা জারির পর স্থানীয় প্রশাসন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নিউ ব্রিটেন দ্বীপে প্রায় ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। এই দ্বীপের জনবহুল এলাকাগুলোতে ভূমিকম্পের প্রভাব সীমিত থাকলেও, সুনামির আশঙ্কা সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। সতর্কতা কমানোর পরও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এই ভারতীয় ডিফেন্ডারকে দলে টানার পথে কেরালা
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া (papua new guinea)
নিউ ব্রিটেনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছিল। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। সবকিছু কাঁপছিল, আর সুনামির খবর শুনে আমরা উঁচু জায়গার দিকে চলে যাই।” তবে, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহারের পর অনেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এখনও পর্যন্ত কিম্বে শহরে বা তার আশপাশে বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। পাপুয়া নিউ গিনির নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। নিউজিল্যান্ডের জন্যও কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ভূমিকম্প ও সুনামির ইতিহাস
পাপুয়া নিউ গিনিতে (papua new guinea) ভূমিকম্প একটি সাধারণ ঘটনা। “রিং অফ ফায়ার”-এর অংশ হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূ-টেকটনিক কার্যকলাপ ঘটে। তবে, দেশটির জনসংখ্যার বেশিরভাগ এলাকা পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধারণত কম হয়। ইতিহাসে এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় সুনামির ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৮ সালে পাপুয়া নিউ গিনির উত্তর-পশ্চিম উপকূলে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্পের পর একটি বিধ্বংসী সুনামি আঘাত হানে, যাতে ২,০০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অগভীর ভূমিকম্পের পর আফটারশকের সম্ভাবনা থাকে, তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। ইউএসজিএস এবং স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সুনামি সতর্কতা কমানো হলেও, সমুদ্রপৃষ্ঠে ০.৩ মিটার পর্যন্ত ওঠানামা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই ঘটনা পাপুয়া নিউ গিনির জন্য একটি সতর্কবার্তা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এই দেশে প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।