ইরানে ২৫০০ প্রাণের বলি, ‘বিপ্লবীদের পাশে আছি’ বললেন ট্রাম্প! উস্কানির অভিযোগ তেহরানের

তেহরান: ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা এবার ২,৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য খুব শীঘ্রই ‘সাহায্য আসছে’।

Advertisements

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানি

আমেরিকা ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (HRANA)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২,৫৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেয়নি, তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে অনেক নিরাপত্তা কর্মী ‘শহীদ’ হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই অশান্তির জন্য ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’দের দায়ী করা হয়েছে।

   

ট্রাম্পের কড়া বার্তা: “সাহায্য আসছে” Trump’s warning to Iran regime

মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান, আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নিন! খুনি ও অত্যাচারীদের নাম মনে রাখুন, তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য আসছে। মিগা (MIGA)!” 

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও বিচ্ছিন্ন ইরান

বিক্ষোভের খবর যাতে বাইরের বিশ্বে না পৌঁছাতে পারে, সেজন্য ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। যদিও সম্প্রতি বিদেশের সঙ্গে ফোন কল করার ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, তবে দেশটির ভেতরে এখনও আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুযোগ নেই। এসএমএস পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলের ক্ষোভ ও নিষেধাজ্ঞা

ইরানের এই দমননীতির প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তলব করা হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস কড়া ভাষায় এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ইভেত কুপার এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরানের পাল্টা অভিযোগ

এদিকে, তেহরান সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এই বিশৃঙ্খলার মূল কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। রাষ্ট্রসংঘে ইরানের দূত আমির সাঈদ ইরাভানি এক চিঠিতে জানিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইসরায়েল সরাসরি ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত করছে এবং যুব সমাজকে উস্কানি দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে।

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক অবিলম্বে এই রক্তক্ষয়ী দমন অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের ‘সাহায্য আসছে’ বার্তা এবং ইরানের কঠোর মনোভাব পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements