‘ছেড়ে কথা বলবে না আমেরিকা!’ ইরানকে সতর্ক করল ট্রাম্প

ইরানে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়া অর্থনৈতিক বিক্ষোভ ঘিরে (Iran protests)আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (স্থানীয় সময়) স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি…

trump-warning-iran-protests-locked-and-loaded

ইরানে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়া অর্থনৈতিক বিক্ষোভ ঘিরে (Iran protests)আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (স্থানীয় সময়) স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর যদি ইরান সরকার হিংসা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “লকড অ্যান্ড লোডেড” অবস্থায় পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসতেই মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতিতে আলোড়ন শুরু হয়েছে।

Advertisements

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “যদি ইরান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের গুলি করে বা সহিংসভাবে হত্যা করে যা তাদের অভ্যাস তাহলে আমেরিকা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে। আমরা লকড অ্যান্ড লোডেড, সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।” এই মন্তব্যকে অনেকেই ইরানের উদ্দেশে সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি বলেই দেখছেন।

   

ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের খবর ফাঁস জামাত নেতার

সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রার ঐতিহাসিক পতন ও তীব্র অর্থনৈতিক দুরবস্থার জেরে একাধিক প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দোকানদার, বাজারের ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া সবাই রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলছেন।

বিক্ষোভের কিছু অংশে পরিস্থিতি হিংসার আকার নিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এবং সরকারি ও বেসরকারি গাড়িতে আগুন লাগায়। ফার্সের অভিযোগ, এই ভিড়ের মধ্যে কিছু সশস্ত্র “বিশৃঙ্খলাকারী” ঢুকে পড়েছিল। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের চাহারমাহাল ও বখতিয়ারি প্রদেশের লর্ডেগান কাউন্টিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা বিক্ষোভকারী না নিরাপত্তারক্ষী তা এখনও স্পষ্ট নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু অসমর্থিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়ছে।

এর আগে বুধবার রাতে লোরেস্তান প্রদেশের কুহদাশত শহরে বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন এবং আরও ১৩ জন আহত হন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম। ফার্স নিউজ এজেন্সি এমন একটি ভিডিও সম্প্রচার করেছে, যেখানে একজন পুলিশ সদস্যকে আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

বাসিজ বাহিনী সাধারণত ইরানে বিক্ষোভ দমনে প্রথম সারিতে থাকে। এই ঘটনার পর প্রশাসনের কড়াকড়ি আরও বেড়েছে। কুহদাশতের সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন, সেখানে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। আবার তেহরানের পশ্চিমে মালার্দ কাউন্টিতে “জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের” অভিযোগে ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় আধিকারিক মনসুর সালেকির দাবি, আটক ব্যক্তিরা “প্রতিবাদের বৈধ অধিকার অপব্যবহার” করছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর হওয়া দেশজোড়া আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় গণ-আন্দোলন। তখন হিজাব আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশের হেফাজতে ২২ বছরের মাহসা আমিনির মৃত্যু ইরানজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল।

মার্কিন বিদেশ দফতরও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ফার্সি ভাষায় দেওয়া পোস্টে তারা জানায়, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে “ভীতি প্রদর্শন, হিংসা ও গ্রেফতার”-এর খবরে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পোস্টে লেখা হয়, “প্রথমে বাজার। তারপর পড়ুয়ারা। এখন গোটা দেশ।

ভিন্ন জীবন, এক দাবি আমাদের কণ্ঠস্বর ও অধিকারকে সম্মান করো।” সব মিলিয়ে, এখনও সীমিত আকারে হলেও এই আন্দোলন ইরানে জনঅসন্তোষের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর সেই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের “লকড অ্যান্ড লোডেড” মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

Advertisements