
ফের উষ্ণ ভারত–মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক৷ আমেরিকায় সস্তা বিদেশি পণ্যে ক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবির পর ফের শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডা থেকে সার আমদানি হোক বা ভারতীয় চাল— সবকিছুর উপরই নতুন করে কর আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ব্লুমবার্গ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে আমেরিকার কৃষকদের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট প্যাকেজ ঘোষণা করতে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “ওরা প্রতারণা করছে” এবং সস্তায় পণ্য ‘ডাম্পিং’-এর অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
‘ভারত, থাইল্যান্ড, চিন, নাম লিখে নিন’
লুইজিয়ানার কেনেডি রাইস মিলের সিইও মেরিল কেনেডি বৈঠকে অভিযোগ করেন, ভারত, থাইল্যান্ড ও চিন সবচেয়ে বড় ‘দোষী’। তাঁর বক্তব্য, চিন মূল ভূখণ্ডে নয়, বরং পুয়ের্তো রিকোয় চাল পাঠাচ্ছে, ফলে দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে চাপ বাড়ছে। “আমরা বহু বছর ধরে পুয়ের্তো রিকোয় চাল পাঠাই না। তিনি বলেন, দক্ষিণের কৃষকরা ভয়াবহ সমস্যায় পড়ছে”। জবাবে ট্রাম্প শুল্ক আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে প্রশ্ন করেন, “আপনাদের আরও শুল্ক চাই?”
এরপরই ট্রাম্প অর্থসচিব স্কট বেসেন্টকে নির্দেশ দেন, কৃষকদের বলা দেশগুলোর নাম নথিভুক্ত করতে। কেনেডি যখন ভারত কীভাবে বেআইনি ভর্তুকি দিয়ে চাল রফতানির সুবিধা পাচ্ছে তা ব্যাখ্যা করছিলেন, ট্রাম্প তাঁকে থামিয়ে বলেন, “দেশগুলোর নামটা বলুন— ভারত, আর কে? লিখে নিন স্কট।”
অর্থসচিব বেসেন্ট আবারও ভারত, থাইল্যান্ড এবং চিনকে প্রধান প্রতিযোগী হিসাবে তালিকাভুক্ত করেন এবং জানান, আরও দেশ রয়েছে, সম্পূর্ণ তালিকা পরে দেওয়া হবে। ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন, “খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
৫০% শুল্কের পরে ফের কড়া অবস্থান Trump threatens new tariffs on India
চলতি বছরের অগস্টেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। যুক্তি, দিল্লি ‘অন্যায্য বাণিজ্যনীতি’ চালু রেখেছে এবং রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ঘটনার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অচলাবস্থায় ছিল। বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে ভারত ও কানাডা, উভয়েই সম্প্রতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।
ভারতে আসছে মার্কিন বাণিজ্যদল
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (USTR) অফিসের ডেপুটি ইউএসটিআর রিক সুইৎজারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ১০ ও ১১ ডিসেম্বর দিল্লিতে দুই দিনের বৈঠকে বসছে। লক্ষ্য, বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
ভারতের তরফে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়াল। গত ২৮ নভেম্বর এফিক्की বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি বলেন, বছরের মধ্যেই প্রথম ধাপের চুক্তি সম্পন্ন করার ব্যাপারে তিনি “খুব আশাবাদী”।
মার্কিন শুল্কের নতুন হুমকি সেই আলোচনায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ‘দ্বৈত চাপের কৌশল’ ভারত–মার্কিন বাণিজ্য সমীকরণে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।










