‘চিন তোমাদের গিলে খাবে!’ গোল্ডেন ডোম নিয়ে কানাডাকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন: প্রতিরক্ষা থেকে বাণিজ্য, প্রতিবেশী রাষ্ট্র কানাডার সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত এবার এক নতুন মাত্রা নিল। গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘গোল্ডেন ডোম’ (Golden Dome)…

Trump Revives Claim of Stopping Eight Wars, Critics Question Motive

ওয়াশিংটন: প্রতিরক্ষা থেকে বাণিজ্য, প্রতিবেশী রাষ্ট্র কানাডার সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত এবার এক নতুন মাত্রা নিল। গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘গোল্ডেন ডোম’ (Golden Dome) নিয়ে কানাডার আপত্তির কড়া সমালোচনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সাফ কথা, নিজেদের নিরাপত্তা বিপন্ন করে চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াচ্ছে কানাডা, যা শেষ পর্যন্ত দেশটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

Advertisements

‘চিন তোমাদের গিলে খাবে’

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা গ্রিনল্যান্ডে গোল্ডেন ডোম তৈরির বিরোধিতা করছে, যদিও এই ব্যবস্থাটি আদতে কানাডাকেই সুরক্ষা দেবে। তার বদলে তারা চিনের সঙ্গে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনে রাখবেন, প্রথম এক বছরের মধ্যেই চিন তোমাদের গিলে খাবে।”

   

ট্রাম্পের এই আক্রমণ মূলত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাম্প্রতিক বেজিং সফরকে কেন্দ্র করে। সেখানে চিনের সঙ্গে বেশ কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে কানাডা, যা ভালোভাবে দেখছে না ওয়াশিংটন।

‘গোল্ডেন ডোম’ ও ট্রাম্পের দাবি Trump Slams Canada

দাভোস-এ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, এই বিশাল প্রতিরক্ষা বলয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কানাডাকে সুরক্ষা দেবে। তিনি বলেন, “কানাডা আমাদের থেকে অনেক কিছু বিনে পয়সায় পায়। তাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। আমেরিকার জন্যই কানাডা টিকে আছে, এটা মার্কের (কার্নি) মনে রাখা উচিত।”

উল্লেখ্য, ‘গোল্ডেন ডোম’ হল একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে মহাকাশ-ভিত্তিক সেন্সর এবং ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হবে। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৯ সালের মধ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছেন ট্রাম্প।

কানাডার পাল্টা জবাব

ট্রাম্পের এই ‘আধিপত্যবাদী’ সুরের কড়া জবাব দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমেরিকার জন্য কানাডা বেঁচে নেই। আমরা কানাডীয় বলেই আমাদের দেশ উন্নতি করছে। আমরা আমাদের ঘরের মালিক, এটা আমাদের দেশ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ। আমরা কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখব, সেই সিদ্ধান্ত আমাদের।”

সংঘাতের অন্য প্রেক্ষাপট

 কানাডা ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা কেবল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ নেই। এর আগে ট্রাম্প রসিকতা বা প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি ভেনেজুয়েলা, কিউবা এবং কানাডাকে আমেরিকার মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিতর্কিত ছবিও শেয়ার করেছিলেন তিনি।

কানাডার জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত বব রে এই প্রস্তাবিত গোল্ডেন ডোম প্রকল্পকে ‘প্রটেকশন র‍্যাকেট’ বা তোলাবাজির সঙ্গে তুলনা করেছেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অবশ্য জানিয়েছেন, কানাডা চাইলে এই প্রকল্পে অংশ নিতে পারে, তবে তার জন্য নির্দিষ্ট অর্থ খরচ করতে হবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৯ সালের মধ্যে গোল্ডেন ডোম চালুর যে লক্ষ্য ট্রাম্প নিয়েছেন, তা নিয়ে উত্তর আমেরিকার এই দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর মধ্যে কূটনৈতিক যুদ্ধ এখন তুঙ্গে।

Advertisements