মোদী দারুণ ভালো বন্ধু! দরাজ প্রশংসা ট্রাম্পের, দিলেন বড় বাণিজ্য চুক্তির ইঙ্গিত

ডাভোস: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) ব্যস্ততার মাঝে ফের একবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাভোসে ‘মানি-কন্ট্রোল’-কে দেওয়া এক একান্ত…

Trump praises Modi

ডাভোস: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) ব্যস্ততার মাঝে ফের একবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাভোসে ‘মানি-কন্ট্রোল’-কে দেওয়া এক একান্ত ভিডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মোদীকে তাঁর “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” হিসেবে বর্ণনা করেন। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক টানাপোড়েন মিটে যাবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

Advertisements

“মোদী একজন ফ্যান্টাস্টিক মানুষ”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আপনার দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি একজন চমৎকার মানুষ (Fantastic man) এবং আমার খুব ভালো বন্ধু।” দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শুল্ক যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি হতে চলেছে কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত জবাব ছিল, “আমরা একটি দারুণ চুক্তিতে পৌঁছাতে চলেছি।”

   

রাশিয়ান তেল ও শুল্ক নিয়ে হুঁশিয়ারি Trump praises Modi

তবে প্রশংসার পাশাপাশি কড়া বার্তা দিতেও ছাড়েননি ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি দাবি করেছিলেন, মার্কিন চাপের মুখে পড়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের কথায়, “তারা (ভারত) আমাকে খুশি করতে চেয়েছিল। মোদী খুব ভালো মানুষ, তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আর আমাকে খুশি রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, যদি ভারত রাশিয়ার জ্বালানি ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে সমর্থন না করে, তবে দ্রুত শুল্ক (Tariff) বৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে নয়াদিল্লি। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুত শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারি, যা তাদের (ভারত) জন্য মোটেও ভালো হবে না।” যদিও ভারত বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ এবং বাজার দরের ওপর নির্ভরশীল।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন

বর্তমানে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক যথেষ্ট চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া এবং ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতার জেরে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে বেশিরভাগ ভারতীয় রফতানির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। এর পাল্টা হিসেবে ভারতও কিছু মার্কিন কৃষি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে।

হোয়াইট হাউস চায় ভারত তাদের কৃষি বাজার আমেরিকার জন্য আরও উন্মুক্ত করুক, কিন্তু নয়াদিল্লির কাছে কৃষকদের সুরক্ষা একটি আপসহীন বিষয়। এই পরিস্থিতির মাঝে ডাভোসে ট্রাম্পের এই উষ্ণ মন্তব্য নতুন কোনো বাণিজ্যিক সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Advertisements