গাজা পুনর্গঠন ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের ‘বোর্ড অফ পিস’ (Board of Peace)। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডকে নিরস্ত্রীকরণ এবং সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মার্কিন মদতপুষ্ট ও জাতিসংঘ সমর্থিত এক মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
‘বোর্ড অফ পিস’
মার্কিন প্রশাসনের এই উদ্যোগে মূলত তিনটি পর্যায় রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে মূল ‘বোর্ড অফ পিস’, গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি এবং প্রশাসনিক সহায়তার জন্য একটি ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’।
বোর্ড অফ পিস-এর সদস্যবৃন্দ গাজার শাসন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বড় আকারের বিনিয়োগ ও অর্থায়নের বিষয়টি দেখভাল করবে এই বোর্ড। এর নিশ্চিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন-
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (চেয়ারম্যান)
- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
- ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার
- ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা
- মার্কিন ধনকুবের মার্ক রোয়ান এবং নিরাপত্তা পরিষদের রবার্ট গ্যাব্রিয়েল
বোর্ডে রয়েছেন মোদী Trump-led Gaza peace initiative
প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমন্ত্রণ ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, গাজায় স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই বোর্ডে যোগদানের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি আলবেনিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, ইতালি, তুরস্ক, জর্ডান এবং মিশরের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও এই উদ্যোগে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বোর্ডে আর কারা?
গাজার নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গাজার জনসেবা ও নাগরিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন উপমন্ত্রী আলী শাথ-এর নেতৃত্বাধীন একটি জাতীয় কমিটির ওপর। পাশাপাশি গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান, কাতারি কূটনীতিক আলী আল-থাওয়াদি, মিশরের গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল হাসান রাশাদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী রিম আল-হাশিমিকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও এই বোর্ডে রয়েছেন ইসরায়েলি ধনকুবের ইয়াকির গ্যাবে।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজাকে নতুন করে গড়ে তোলার এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই বোর্ড গাজায় কার্যকর শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অঞ্চলটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
