নাগরিকত্ব প্রমাণ বাধ্যতামূলক! মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বদল আনছেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন: মঙ্গলবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এই নতুন আদেশে ভোটার হিসাবে…

Trump executive order on voter ID

ওয়াশিংটন: মঙ্গলবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এই নতুন আদেশে ভোটার হিসাবে নথিভুক্ত করতে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ যেমন পাসপোর্ট বা অন্যান্য সরকারি ডকুমেন্ট। এছাড়াও, নির্বাচনী দিন শেষে কোন মেইল-ইন ব্যালট গ্রহণ করা হবে না, যা ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। (Trump executive order on voter ID)

   

নির্বাচনী সুরক্ষায় পিছিয়ে Trump executive order on voter ID

আদেশে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আমেরিকার নির্বাচনী সুরক্ষায় পিছিয়ে পড়েছে৷ রাজ্যগুলিকে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কাজ করে ভোটার তালিকা শেয়ার করতে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ দমন করতে বলা হয়েছে। যেসব রাজ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিয়ম মেনে চলবে না, তাদের ফেডারেল তহবিলের ওপর কাটা পড়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

ভারতের উদাহরণ টেনে ট্রাম্পের মন্তব্য Trump executive order on voter ID

ট্রাম্পের আদেশে ভারতের উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ভারত ও ব্রাজিল বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের মাধ্যমে ভোটার শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চালু করেছে। তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা এখনও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বড় অঙ্গীকারের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু উন্নত দেশগুলি, যেমন ভারত, বায়োমেট্রিক ডেটাবেস ব্যবহার করছে।”

নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ফেডারেল নির্বাচনের জন্য ভোটার নিবন্ধন ফর্মে নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকবে, যা ইতিমধ্যেই বিতর্কিত হতে শুরু করেছে। এ ছাড়া, পোস্টমার্কের তারিখের ভিত্তিতে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মেইল-ইন ব্যালট গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচন সুরক্ষা ও জনগণের বিশ্বাস  Trump executive order on voter ID

ট্রাম্প এই আদেশে আরও বলেছেন, “নির্বাচনগুলো অবশ্যই সততা ও জনসাধারণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন এমন পদ্ধতি যা ভোটারদের তাদের ভোট যাচাই করতে সহায়তা করবে, যাতে কোনো ভুল বা প্রতারণা না ঘটে।” ট্রাম্পের এ বক্তব্য তার দীর্ঘদিনের দাবির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে তিনি ভোটে অসংগতি ও প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন, বিশেষ করে মেইল-ইন ভোটিংকে নিয়ে। তবে, এর পক্ষে কোনো যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

আইনি চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া Trump executive order on voter ID

এই আদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক দলের নেতারা এবং ভোটাধিকার সংগঠনগুলি সতর্ক করেছে যে, এটি ভোটারদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯ শতাংশ যোগ্য মার্কিন নাগরিক বা ২১.৩ মিলিয়ন মানুষ নাগরিকত্বের প্রমাণ সহজেই পেতে পারবেন না, যা নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট সেক্রেটারি অব স্টেট, জেনা গ্রিসওল্ড এই আদেশকে “অবৈধ” এবং ফেডারেল সরকারের অপব্যবহার বলে মন্তব্য করেছেন, এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটার টার্নআউট কমানোর অভিযোগ তুলেছেন।

সংবিধান এবং আইনি প্রতিক্রিয়া Trump executive order on voter ID

আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যগুলিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার মূল কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও কংগ্রেস ভোটিং সংক্রান্ত কিছু বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে, তবে এই নির্বাহী আদেশ আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশটি ভোটার নিবন্ধনের জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং নির্বাচনী দিন পরবর্তী সময়ে মেইল-ইন ব্যালট গ্রহণ নিষিদ্ধ করে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন আনবে। তবে, এটি আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে এবং দেশব্যাপী রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

World: US President Donald Trump signs an executive order mandating citizenship proof for voter registration and banning mail-in ballots post-election day. This reform aims to enhance election security but sparks debates. Learn about its implications and global comparisons.