ডাভোস: সুইজারল্যান্ডের আল্পাইন রিসোর্ট ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘ডিক্টেটর’ বা একনায়ক হিসেবে অভিহিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের নেতৃত্ব দেওয়ার ধরন এবং নীতিগত অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়েই এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি।
নিজেকে কেন ‘ডিক্টেটর’ বললেন ট্রাম্প?
ডাভোসে দেওয়া ভাষণের পর সংবাদমাধ্যমের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় নিজেই কিছুটা অবাক হন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা একটি ভালো ভাষণ দিয়েছি। দারুণ সব রিভিউ পেয়েছি। আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না।”
সাধারণত সংবাদমাধ্যমে তাঁর ভাবমূর্তি কেমন থাকে, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, “সাধারণত তারা (সংবাদমাধ্যম) আমাকে নিয়ে বলে, সে একজন ভয়ংকর ডিক্টেটর টাইপের মানুষ।” ঠিক সেই মুহূর্তেই লেবেলটি নিজের গায়ে টেনে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি একজন ডিক্টেটর। তবে মাঝে মাঝে আপনাদের একজন ডিক্টেটর প্রয়োজন হয়।”
অবশ্য নিজের এই মন্তব্যের পরপরই এর ব্যাখ্যা দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর শাসনব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ (রক্ষণশীল বা উদারপন্থী) দ্বারা চালিত নয়, বরং তা ‘কমন সেন্স’ বা সাধারণ বুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে চলে। তাঁর মতে, “আমার সিদ্ধান্তগুলোর ৯৫ শতাংশই হলো কমন সেন্স।”
গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও সুরবদল Trump Davos Dictator Remark
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর ডাভোসে ট্রাম্পের সুরে কিছুটা নমনীয়তা দেখা গিয়েছে। এর আগে ন্যাটো (NATO) মিত্রদের সঙ্গে এই বিষয়ে তাঁর টানাপোড়েন চললেও, এখন তিনি সামরিক শক্তি বা শুল্ক (Tariff) আরোপের পথ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, আর্কটিক মিত্রদের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং সহযোগিতামূলক চুক্তির দিকে এগোচ্ছে আমেরিকা। তিনি বলেন, “এটি এমন একটি চুক্তি যা নিয়ে সবাই খুশি। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং চূড়ান্ত চুক্তি। বিশেষ করে নিরাপত্তা এবং খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে এটি সবাইকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।”
চিন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকানোর কৌশল
ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনার মূল লক্ষ্য হল এই অঞ্চলে রাশিয়া বা চিনের অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য রুখে দেওয়া। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি ঘোষণা করেন যে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আগে থেকে নির্ধারিত কোনো শুল্ক বা ট্যারিফ আপাতত কার্যকর করা হবে না।
ট্রাম্পের এই সফরের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন তাঁর স্বভাবসুলভ উদ্ধত মন্তব্য সামনে এসেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কিছুটা নমনীয় হওয়ার চেষ্টাও লক্ষ্য করা গিয়েছে।
