‘গ্রেফতার করা হয়েছে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে!’ বিস্ফোরক পোস্ট ট্রাম্পের

trump-claims-arrest-venezuela-president-maduro

ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump)দাবি করেছেন, আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় ‘বড় ধরনের সামরিক হামলা’ চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁকে তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের সঙ্গে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, “আমেরিকা ভেনেজুয়েলা এবং তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সফলভাবে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।

তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” এই অপারেশন মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেছেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে মার-এ-লাগোতে সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন।৩ জানুয়ারি ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

   

বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজুরকে ছাঁটাইয়ের পর বিরাট ঘোষণা শাহরুখের দলের

লা কার্লোটা বিমানঘাঁটি এবং ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটিতে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। স্থানীয়রা ভয়ে কাঁপছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে আগুনের লেলিহান শিখা এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার সরকার অবিলম্বে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং আমেরিকাকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের’ জন্য অভিযুক্ত করে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ বলেন, দেশ বিদেশি সেনা প্রতিরোধ করবে এবং হামলায় নিহত-আহতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার উদ্দেশ্য দেশের তেল এবং খনিজ সম্পদ দখল করা।এই ঘটনা মাসখানেক ধরে চলা উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অভিযুক্ত করে যে, ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক এবং অপরাধীদের আমেরিকায় পাঠানো হচ্ছে।

গত কয়েক মাসে আমেরিকা ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার নৌকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে। ডিসেম্বরে প্রথমবার ভেনেজুয়েলার মাটিতে ড্রোন হামলার খবর আসে। ট্রাম্প মাদুরোর মাথার দাম ৫০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন এবং কার্টেল দে লস সোলেসকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমেরিকা ভেনেজুয়েলার তেল দখল করতে চায়। তিনি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েও ছিলেন।

আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রাষ্ট্র সংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলো শান্তির আহ্বান জানিয়েছে। ইরান এটাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে। ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা এদমুন্দো গনজালেজকে আমেরিকা স্বীকৃতি দেয়, যিনি নির্বাসিত। যদি মাদুরো গ্রেফতার হন, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা নেবেন, কিন্তু পরিস্থিতি অনিশ্চিত।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন