
ইসলামাবাদ: আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য (Taliban claims ISIS hideouts)ছড়াল আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্ককে ঘিরে। তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক এক অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে আইএসআইএস-এর এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আফগানিস্তানের ইসলামিক এমিরেট এমনই দাবি করেছেন তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামিক এমিরেট পাকিস্তানে আইএসআইএস সদস্যদের উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিল। তাদের গতিবিধির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছিল এবং সেই নজরদারি থেকেই পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই তথ্যের ভিত্তিতেই তুর্কি গোয়েন্দারা পাকিস্তানে অভিযান চালিয়ে আইএসআইএস-এর ওই শীর্ষ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
মিঠুনকে নিয়ে বড় কথা রচনায়! রাজনীতির ঊর্ধ্বে বার্তা, না কি কৌশলী সৌজন্য?
এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, একদিকে তালিবান সরকার নিজেদের আইএসআইএস-বিরোধী শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে এই বক্তব্যের মাধ্যমে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের অভিযোগ, পাকিস্তানের সামরিক শাসনব্যবস্থা বালোচিস্তানের মাস্তুং এলাকায় আইএসআইএস-এর জন্য বিস্তৃত গোপন ঘাঁটি তৈরি করে দিয়েছে।
তাঁর আরও দাবি, এই ঘাঁটিগুলি শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য নয়, গোটা অঞ্চল ও তার বাইরেও অস্থিরতা ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইএসআইএস জঙ্গিদের কার্যকলাপকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক অশান্তি বাড়ানোই পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসনের উদ্দেশ্য—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বালোচিস্তানের মাস্তুং এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের জন্য পরিচিত। সেখানে যদি সত্যিই আইএসআইএস-এর সক্রিয় ঘাঁটি গড়ে ওঠে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তালিবানের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তুরস্কের ভূমিকা নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তুরস্ক যে সক্রিয়ভাবে গোয়েন্দা অভিযান চালাচ্ছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে, আফগানিস্তানের ইসলামিক এমিরেটের সঙ্গে তুরস্কের গোয়েন্দা সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে।
পাকিস্তানের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ইসলামাবাদ বারবার দাবি করেছে, তারা কোনও জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয় দেয় না এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। তালিবানের এই অভিযোগ সেই সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
সব মিলিয়ে, আইএসআইএস নেতা গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তালিবান নিজেদের বৈধ ও দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, তুরস্ক নিজেদের সক্রিয় গোয়েন্দা শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে, আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে উঠছে জঙ্গি আশ্রয়ের গুরুতর অভিযোগ। আগামী দিনে এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।





