সিডনি জঙ্গি হামলায় হামাস যোগ ঘিরে বাড়ছে রহস্য

সিডনি: রবিবারের বিকেলে সিডনিতে ঘটে গেছে মর্মান্তিক ঘটনা (Hamas Link in Sydney Terror Attack)। বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ইহুদি নাগরিকরা ছুটি কাটাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই চলল…

sydney-terror-attack-hamas-link-pakistan-module

সিডনি: রবিবারের বিকেলে সিডনিতে ঘটে গেছে মর্মান্তিক ঘটনা (Hamas Link in Sydney Terror Attack)। বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ইহুদি নাগরিকরা ছুটি কাটাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই চলল এলোপাথাড়ি গুলি। নিহত হলেন ১২ জন। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই তদন্তকারীদের নজরে এসেছে হামাস যোগ। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর হচ্ছে রহস্য।

Advertisements

ঘটনার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ও কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, এই হামলার পেছনে হামাসের যোগসূত্র থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবে বেশ কিছু সূত্রের ইঙ্গিত তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে।

   

ভারতে লঞ্চের আগে OnePlus 15R-এর দাম ফাঁস, কত দেখুন

তদন্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসে হামাসের একটি প্রতিনিধি দল একাধিকবার পাকিস্তান সফর করেছে। সেই সফরগুলিতে তারা পাকিস্তানের পরিচিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং এমনকি আইএসআই-এর কিছু কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই যোগাযোগগুলিই সিডনি হামলার আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সিডনি হামলার কৌশল ও প্যাটার্ন কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিল রয়েছে। টার্গেট নির্বাচন, হামলার সময়, অস্ত্র ব্যবহারের ধরন সবকিছুতেই মিল পাওয়া যাচ্ছে। এই মিল থেকেই তদন্তকারীদের অনুমান, পহেলগাম ও সিডনির হামলা একই পাকিস্তান-ভিত্তিক মডিউলের দ্বারা সংঘটিত হতে পারে।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানতে পারা গিয়েছে একাধিক টেকনিক্যাল ও ইন্টেলিজেন্স ইনপুট একই দিকেই ইঙ্গিত করছে। যদি এই যোগসূত্র প্রমাণিত হয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত হবে।”এদিকে হামলার পর থেকে সিডনি জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইহুদি উপাসনালয়, স্কুল এবং জনবহুল এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলা শুধু সিডনির উপর নয়, মানবতার উপর আঘাত। দোষীরা যেখানেই থাকুক, তাদের খুঁজে বের করা হবে।”

আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইজরায়েল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই হামাস, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের যোগসূত্র প্রমাণিত হয়, তবে সন্ত্রাসবাদ আর কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই—এটাই আবারও স্পষ্ট হবে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সিডনি হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কতটা বড় চ্যালেঞ্জ, তা আরও পরিষ্কার হবে।

Advertisements