
কিয়েভ: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগুন ফের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে (missile attack)। গত কয়েক ঘণ্টায় রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশে ৫০টিরও বেশি মিসাইল হামলা চালিয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে রক্তগঙ্গা বয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহে ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত হেনেছে আবাসিক ভবনে, যাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং জল সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
হামলা এখনও চলছে বলে খবর, এবং আরও আঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, রাশিয়া ইস্কান্ডার এবং অন্যান্য ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করেছে এই তীব্র আক্রমণে।ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যা থেকে। ক্রিভি রিহে এয়ার রেইড অ্যালার্ট জারি হওয়ার পরপরই ব্যালিস্টিক মিসাইলের আঘাতে আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে।
মমতার ‘ফাইল ছিনতাই’ ইস্যুতে ধিক্কার জানিয়ে প্রতিবাদ চন্দননগরে
স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার ভিলকুল জানিয়েছেন, দু’টি ইস্কান্ডার মিসাইল আঘাত হেনেছে অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে, যাতে ১০ জন আহত হয়েছেন তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া শহরের জল সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে হাজার হাজার বাসিন্দা পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন। ক্রিভি রিহ, যা জেলেনস্কির শৈশবের শহর, বারবার রাশিয়ান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবারের আঘাত তার মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ।
এই হামলা শুধু ক্রিভি রিহে সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গত দু’ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫০টির বেশি মিসাইল ছোড়া হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো এনার্জি ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং সামরিক অবস্থানকে টার্গেট করেছে।
খারকিভ, দিনিপ্রো, জাপোরিঝিয়া এবং অন্যান্য শহরে বিস্ফোরণের খবর এসেছে। রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে যে, এই হামলা ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং এনার্জি সুবিধার বিরুদ্ধে, কিন্তু ইউক্রেনীয় পক্ষ বলছে, এটা বেসামরিক এলাকাকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।এই তীব্র হামলার পটভূমি সাম্প্রতিক দিনগুলোর উত্তেজনা। গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের এনার্জি গ্রিডে বারবার আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে শীতের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
জানুয়ারির শুরু থেকে খারকিভে একাধিক মিসাইল হামলা হয়েছে, যাতে বেসামরিক মৃত্যু ঘটেছে। এবারের ৫০টির বেশি মিসাইলের ঝড় যুদ্ধের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউক্রেনীয় এয়ার ডিফেন্স অনেক মিসাইল ধ্বংস করলেও, কিছু আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ফলে শহরগুলোতে ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপের ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।










