What is the Real Reason Behind Modi’s Historic Welcome in Colombo?
শনিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর ঐতিহাসিক স্বাধীনতা চত্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (modi) এক ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়েছে। এটি সম্ভবত প্রথমবার যখন কোনো বিদেশি নেতাকে এই চত্বরে এমন সম্মান প্রদর্শন করা হলো। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাধীনতা চত্বরে স্বাগত জানান। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যাংকক থেকে বিমসটেক (বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগে বহুক্ষেত্রীয় প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান শেষ করে মোদী কলম্বোতে পৌঁছান।
কলম্বোর স্বাধীনতা চত্বরে একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের জনগণের ভাগ করা ভবিষ্যৎ ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য অংশীদারিত্ব জোরদার করতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সামনে রয়েছে।” আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এটিই প্রথমবার যে কোনো বিদেশি নেতাকে স্বাধীনতা চত্বরে এমন সংবর্ধনা দেওয়া হলো। কিন্তু কেন এমন ঐতিহাসিক সম্বর্ধনা কি তার কারণ।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমঝোতা
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী মোদী (modi) প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় বসেছেন। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ১০টি উচ্চাভিলাষী ফলাফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি এবং জ্বালানি খাতে গভীরতর সহযোগিতার কাঠামো।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলে, এটি ভারত-শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সম্পর্কে একটি বড় অগ্রগতির সংকেত দেবে। এটি প্রায় ৩৫ বছর আগে শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী (আইপিকেএফ) প্রত্যাহারের তিক্ত অধ্যায়কে পিছনে ফেলে নতুন সম্পর্কের সূচনা করবে।
অর্থনৈতিক চাপ থেকে পুনরুদ্ধার
শ্রীলঙ্কা এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক চাপ থেকে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখাচ্ছে। তিন বছর আগে দেশটি একটি বিশাল অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছিল। সেই সময় ভারত ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল। মোদী ও দিসানায়েকের আলোচনার পর দুটি নথি প্রকাশিত হতে পারে—একটি শ্রীলঙ্কার ঋণ পুনর্গঠনে ভারতের সহায়তা এবং আরেকটি মুদ্রা বিনিময় সংক্রান্ত। এছাড়া ডিজিটাল ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি পৃথক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হতে পারে।
ফের সুদ কমানোর পথে আরবিআই, ঋণে স্বস্তি পাবেন আপনি
আইপিকেএফ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা (modi)
দিনের পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী আইপিকেএফ (ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী) স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। শ্রীলঙ্কায় ভারতের হাইকমিশনার সন্তোষ ঝা শুক্রবার পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শ্রীলঙ্কাকে ভারতের দেওয়া সহায়তা “অভূতপূর্ব”। তিনি বলেন, “এটি বিশ্বের কোনো দেশকে ভারতের দেওয়া সহায়তার তুলনায় অনেক বড়। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি এবং এখানে তা অত্যন্ত প্রশংসিত।”
প্রকল্প উদ্বোধন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কলম্বোতে মোদী (modi) এবং দিসানায়েকে ভারতের সহায়তায় নির্মিত বেশ কয়েকটি প্রকল্প উৎসর্গ করবেন। দুই নেতা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাম্পুর সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সাক্ষী থাকবেন। এই প্রকল্পগুলো শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
এই সফর ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি সুযোগ। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, এবং ডিজিটাল সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার প্রতীক হবে। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারতের সহায়তা দুই দেশের বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর শ্রীলঙ্কার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে থাকা এই দ্বীপরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাধীনতা চত্বরে দেওয়া সংবর্ধনা এই সম্পর্কের প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।
শ্রীলঙ্কার জনগণ এই সফর থেকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার আশা করছে। ভারতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তাদের দেশের উন্নয়নে গতি আনবে বলে তারা বিশ্বাস করে। মোদীর এই সফর দুই দেশের জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।