
পাকিস্তানের (Pakistan) এক শীর্ষস্থানীয় সরকারি আধিকারিক খুব শিগগিরই ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো গাজা পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তাবিত একটি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। চলমান সংঘাতের পর গাজায় পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই বিষয়েই মূলত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় সংঘাত-পরবর্তী গাজায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় মুসলিম দেশগুলির সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সেনা মোতায়েনের লক্ষ্য হবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার তদারকি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ধাপে ধাপে একটি স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার দিকে গাজাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাকিস্তান এই উদ্যোগে কী ভূমিকা নিতে পারে এবং আদৌ কোনও সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেবে কি না, তা নিয়েই ওয়াশিংটনের আলোচনায় জোর দেওয়া হবে।
সূত্রের দাবি, এই ২০ দফা পরিকল্পনার অন্যতম সংবেদনশীল দিক হলো গাজার স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্রীকরণের সম্ভাব্য প্রস্তাব। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ এমন পদক্ষেপ গাজার অভ্যন্তরে যেমন প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে, তেমনই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলির সেনা যদি নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়, তাহলে তা নিয়ে দেশীয় স্তরে সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিরাপত্তা সহায়তা। সংঘাত-পরবর্তী গাজায় পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে যে বিপুল নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হবে, তা কীভাবে জোগানো হবে, সেই প্রশ্নও আলোচনায় উঠবে। পাকিস্তান চাইছে, এই পরিকল্পনা যেন কেবল সামরিক নয়, বরং মানবিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। খাদ্য, চিকিৎসা, অবকাঠামো এবং শরণার্থীদের পুনর্বাসন—এই বিষয়গুলিও শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সফর পাকিস্তানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে গাজা শান্তি পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদকে আন্তর্জাতিক প্রত্যাশা ও অভ্যন্তরীণ জনমতের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। ওয়াশিংটনের আলোচনায় সেই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়েই মূলত মতবিনিময় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।










