গুঁড়িয়ে দিচ্ছে তালিবানরা! স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের

pakistan-taliban-border-clash-afghanistan

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ (Pakistan)। আফগান তালিবানের দাবি, পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযানে তারা ৫৮ জন পাক সেনাকে হত্যা করেছে এবং ২৫টি সীমান্ত চৌকি দখল করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে তাদের ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছে, কিন্তু দাবি করেছে যে তারা ২০০-এর বেশি তালিবান এবং সহযোগী জঙ্গিকে নিশ্চিহ্ন করেছে। এই সংঘর্ষের সূচনা পাকিস্তানের বিমান হামলা থেকে, যাতে আফগানিস্তানের নিরীহ নাগরিকরা প্রাণ হারিয়েছে বলে তালিবানের অভিযোগ।

এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ‘সন্ত্রাস ছড়ানোর’ নীতির প্রতিফলন বলে অনেকে মনে করছেন।২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এই সংঘর্ষ তীব্র আকার নেয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের কাবুল, খোস্ত, জালালাবাদ এবং পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আস্তানা। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপি আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

   

চরম ভারত বিদ্বেষ সত্ত্বেও ডিজেল কিনতে ভারতের দ্বারস্থ ইউনুস সরকার

কিন্তু তালিবান সরকার এই হামলাকে ‘সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা করে এবং দাবি করে যে এতে নিরীহ নাগরিক, মহিলা ও শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিশোধ হিসেবে তালিবান বাহিনী পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিগুলোতে আক্রমণ চালায়। কুনার-কুররাম এবং স্পিন বোল্ডাক অঞ্চলে তীব্র গোলাগুলি এবং আর্টিলারি বিনিময় হয়। তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “এটি প্রতিশোধমূলক অভিযান।

পাকিস্তান যদি আবার আক্রমণ করে, আমরা আরও কঠোর জবাব দেব।”পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তালিবানের আক্রমণ ‘অযৌক্তিক’ এবং তারা নিজেদের প্রতিরক্ষায় কঠোর জবাব দিয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই হামলার নিন্দা করে বলেন, সেনাবাহিনী যোগ্য জবাব দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও সীমান্তে উত্তেজনা এখনও রয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, তালিবানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে, আবার পাকিস্তানি চৌকিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত।এই সংঘর্ষের গভীর কারণ পাকিস্তানের টিটিপি সমস্যা। তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে টিটিপি পাকিস্তানে হামলা বাড়িয়েছে। পাকিস্তান তালিবানকে অভিযোগ করে যে তারা টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে, যা তালিবান অস্বীকার করে। কিন্তু অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, পাকিস্তান নিজেই অতীতে তালিবানকে সমর্থন করে ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ তৈরি করেছে।

ভারত এবং আফগানিস্তানে সন্ত্রাস ছড়ানোর জন্য পাকিস্তানের আইএসআই-এর ভূমিকা দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এখন সেই নীতির প্রতিফলন ঘরে ফিরে এসেছে। ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান যেভাবে ভারতে সন্ত্রাস ছড়িয়েছে, এখন তালিবান এবং টিটিপি তাদেরই গলায় ফাঁস হয়ে উঠেছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন