
শ্রীনগর: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ফের ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহের আগুন (Pakistan Occupied Kashmir protest)। রবিবার থেকে রাওয়ালাকোট ও কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। অন্যায্য বিদ্যুৎ লোডশেডিং, দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা, এবং সাংবাদিক সোহরাব বারকাতের মুক্তির দাবিতে গর্জে ওঠে জনতা।
বিক্ষোভের কেন্দ্রে ছিলেন উমর নাজির কাশ্মীরি, যিনি জম্মু–কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির কোর সদস্য। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে পাকিস্তান সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় বার্তা দিতে দেখা যায়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট জনগণের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবিগুলি মানা না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও কঠোর হবে এমনই হুঁশিয়ারি।
যুবভারতী কাণ্ডে ধৃতদের আইনি সহায়তা দেবে বিজেপি, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
আন্দোলনের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, দাবি না মানলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করা হতে পারে। একটি পথ গ্রিড স্টেশনের দিকে, অন্যটি শাহরাহ-ই-গাজি মিল্লাতের দিকে যাওয়া রাস্তায়। এই দুই রুট অবরুদ্ধ হলে রাওয়ালাকোট ও আশপাশের অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন, তবে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং চলছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবার বেহাল দশা শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল লেনদেন ও জরুরি যোগাযোগ সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে উঠেছে সাংবাদিক সোহরাব বারকাতের গ্রেফতার ও আটক। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। প্রেস ফ্রিডম নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হলে সাধারণ মানুষের সমস্যাও অন্ধকারেই থেকে যাবে। তাই অবিলম্বে সোহরাব বারকাতের মুক্তি দাবি করা হয়েছে।
এই আন্দোলন শুধু একটি শহর বা একটি দাবিতে সীমাবদ্ধ নয় এটি PoK জুড়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অতীতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, কর আরোপ ও প্রশাসনিক অব্যবস্থার বিরুদ্ধে একাধিকবার আওয়াজ উঠেছে। এবার সেই ক্ষোভ নতুন করে সংগঠিত রূপ নিচ্ছে। আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
পাকিস্তান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সমাধানসূত্র ঘোষণা না করলেও, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে বলে খবর। তবে আন্দোলনকারীদের মনোভাব স্পষ্ট আর আশ্বাস নয়, চাই বাস্তব পদক্ষেপ। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ পরিষেবা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এই তিনটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। সব মিলিয়ে, রাওয়ালাকোটের এই বিক্ষোভ PoK-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিকেল ৫টার আল্টিমেটামের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা অঞ্চল।










