লন্ডনের রাস্তায় চাঞ্চল্য। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সৈয়দ মোহসিন রাজা নকভির গাড়ি আটক করল পুলিশ (Pakistan Minister Car Stopped)। ব্রিটিশ পুলিশের কড়া অনুসন্ধানের মুখোমুখি হয়েছে নকভির গাড়ি। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠতেই পাকিস্তানে ব্যাপক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এই ঘটনা কেবল একজন উচ্চপদস্থ নেতার ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং পাকিস্তানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গভীর অবিশ্বাস এবং অভ্যন্তরীণ অরাজকতার প্রতীক হিসেবে বিশ্লেষকরা এটিকে দেখছেন।
এই ঘটনা ঘটে সোমবার। মহসিন নকভি বিদেশ মন্ত্রকের অফিসে যাচ্ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, লন্ডনের একটি ব্যস্ত রাস্তায় নকভির অফিসিয়াল গাড়িকে পুলিশ হঠাৎ আটকে দেয়। পুলিশ কর্মীরা গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে অনুসন্ধান শুরু করে, যেন তার গাড়িতে কোনও সন্দেহজনক বস্তু ড্রাগ বা বিস্ফোরক লুকোনো আছে বলে মনে করছেন। একজন পাকিস্তানি সাংবাদিক এই ঘটনার ভিডিও করেন , যাতে দেখা যায় নকভির গাড়ির চারপাশে পুলিশের কড়া নজরদারি এবং অনুসন্ধানের দৃশ্য।
আগামী মরসুমে ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে খুশি সন্দেশ
এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানি ইউজাররা এটিকে ‘অপমানজনক’ বলে চিহ্নিত করছেন। একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আমাদের মন্ত্রীকে এভাবে রাস্তায় আটকে অনুসন্ধান করা কি বিদেশি পুলিশের অধিকার? এটা পাকিস্তানের দুর্বলতার প্রমাণ।” অন্যরা এটিকে ‘ঘোর অবমাননা’ বলে অভিহিত করেছেন।
নকভি কে আসলে? তিনি পাকিস্তানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী এবং নারকোটিক্স কন্ট্রোলের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট। ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণকারী এই রাজনীতিবিদ মিডিয়া ব্যাক্তিত্বও বটে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি শেহবাজ শরিফের ক্যাবিনেটে যোগ দেন।
পঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত, কারণ বিরোধীরা তাকে ‘সামরিক প্রতিষ্ঠানের লোক’ বলে অভিহিত করেছে। এই লন্ডন সফরের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা বিশেষ করে শাহজাদ আকবর এবং আদিল রাজার মতো পলাতকদের প্রত্যর্পণ নিয়ে। কিন্তু সেই আলোচনার আগেই এই অপ্রস্তুত ঘটনা ঘটে যায়। শুধু তাই নয় সম্প্রতি ভারত পাকিস্তান এশিয়া কাপের ট্রফি বিতর্কেও তার নাম জড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অনৈতিক ভাবে তিনি ভারতীয় দলের এই ট্রফি আটকে রেখেছেন।
পাকিস্তানের সরকারি বক্তব্য এখনও স্পষ্ট নয়। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, যা নিজেই একটি রহস্য। নকভি নিজে কোনো মন্তব্য করেননি, কিন্তু তার ঘনিষ্ঠ সূত্ররা বলছেন, তিনি এটিকে ‘প্রোটোকলের অংশ’ বলে উড়িয়ে দিতে চাইছেন। তবে বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), এটিকে সরকারের ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে দেখছে।
