
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো এখন কার্যত গভীর সংকটে (Pakistan military civilian government conflict)। দেশটির সামরিক বাহিনী ও নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে। এই দ্বন্দ্ব আর কেবল নীতিগত মতবিরোধে সীমাবদ্ধ নেই এখন তা রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য কথার লড়াই, সাংবিধানিক সংঘাত এবং কখনও কখনও শারীরিক সংঘর্ষেও। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায়।
দেশটির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্র আজও পুরোপুরি সংসদ বা জনগণের হাতে নেই। সেনাবাহিনী ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে, তা এখনও অটুট। অন্যদিকে নির্বাচিত সরকার নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে একাধিকবার সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলেই আজ রাষ্ট্রযন্ত্র কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
SBI-এর বড় সিদ্ধান্ত! সুদের হার কমল, কতটা কমবে আপনার EMI? জানুন বিস্তারিত
বর্তমানে পাকিস্তানের সংসদ, আদালত ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগে ব্যস্ত। সংসদে নীতি নির্ধারণের বদলে চলছে বাকযুদ্ধ। সেনা নেতৃত্ব সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানাচ্ছে, আবার সরকারও সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর জেরে উন্নয়নমূলক কাজ, সংস্কার বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সবই পিছনের সারিতে চলে গেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অর্থনীতিতে। বৈদেশিক ঋণের পাহাড়ে চাপা পড়া পাকিস্তান এখন কার্যত দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ঋণ, চীনের দেনা ও অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং সংকট সব মিলিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অথচ এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও সেনা নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করার বদলে একে অপরকে দোষারোপ করতেই ব্যস্ত।
দেশজুড়ে নতুন কোনও বড় উন্নয়ন প্রকল্প চোখে পড়ছে না। বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা পরিকাঠামো কোনও ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। বহু প্রকল্প মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে অর্থের অভাবে বা প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে। সাধারণ মানুষ ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছে, কারণ তাদের কাছে এই ক্ষমতার লড়াইয়ের কোনও ইতিবাচক ফল নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে বর্তমানে এক ধরনের “প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষাঘাত” তৈরি হয়েছে। সেনা, সরকার, সংসদ ও বিচারব্যবস্থা—সবাই নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যস্ত, কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কেউই কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না। এর ফলেই সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে, বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পাকিস্তানের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে চরমপন্থা, সামরিক হস্তক্ষেপ বা রাষ্ট্রীয় ভাঙনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—ক্ষমতার লড়াই বন্ধ করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই পথ কতটা সুগম, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।






