
মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন (Pakistan)। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রধান আসিম মালিক সম্প্রতি মিশরে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ইসরায়েল ও আমেরিকার গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরান সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করছেন।
সূত্র জানাচ্ছে, এই বৈঠকে যোগ দিতে আসিম মালিককে সরাসরি পাঠিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কারণ পাকিস্তান প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে না। সেই প্রেক্ষাপটে মিশরের মাটিতে এই ত্রিপাক্ষিক গোয়েন্দা সংলাপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
রঞ্জিতে এই তারকা ছাড়াই ২২ গজে নামছে বঙ্গ ব্রিগেড
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিতে পারে তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানি গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর তার প্রভাব নিয়েও মতবিনিময় চলছে।
এই গোপন বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পারস্পরিক গোয়েন্দা সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা। ইরানকে ঘিরে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কীভাবে তথ্য আদান-প্রদান ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। ইসরায়েল ও আমেরিকার জন্য ইরান দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ, আর পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা মূল্যায়ন এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। গতকালই ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে অনুপ্রবেশ করা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই মিশরে গোয়েন্দা বৈঠকের খবর সামনে আসায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলির মধ্যে নীরব কৌশলগত সমন্বয় বাড়ছে। পাকিস্তান একদিকে ইরানের প্রতিবেশী ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, অন্যদিকে আবার আমেরিকার সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক বজায় রাখে। এই দ্বৈত অবস্থান থেকেই ইসলামাবাদ হয়তো নিজের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়াতে চাইছে।
যদিও পাকিস্তান, আমেরিকা বা ইসরায়েলের তরফে এই বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি, তবুও এই গোপন আলোচনা যে ভবিষ্যতে ইরান-কেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, সেদিকে এখন নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।






