ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ (Pakistan)আবারও একটা লজ্জাজনক ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন। সিয়ালকোট ক্যান্টনমেন্টে তিনি সম্প্রতি একটা ‘পিজ্জা হাট’ আউটলেটের উদ্বোধন করেন লাল কার্পেট, ফুলের সাজ, ফিতা কাটা, ছবি তোলা সবকিছু ছিল একটা বড় অনুষ্ঠানের মতো।
কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকান ফাস্টফুড চেইন পিজ্জা হাটের পাকিস্তান শাখা স্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেয় যে, এটা একটা অননুমোদিত, জাল আউটলেট। ব্র্যান্ডের নাম ও পরিচয় অপব্যবহার করে চালানো হচ্ছে এটাকে। এই ঘটনায় পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় খাজা আসিফকে নিয়ে তুমুল ট্রোলিং শুরু হয়েছে।
ভারতীয় দলের নয়া কোচের নাম ঘোষণার পরই উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা
অনেকে বলছেন, “শুধু পাকিস্তানেই একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গর্ব করে ফেক পিজ্জা হাট উদ্বোধন করতে পারেন!”খাজা আসিফ পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর সিনিয়র নেতা এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার নাম আগেও বিতর্কিত দাবি ও মন্তব্যের জন্য খবরে এসেছে। কখনও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো ভুয়ো দাবি করে ভারতের যুদ্ধবিমান ভাঙার প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল, কখনও অন্যান্য ফেক নিউজ এসবের জন্য তিনি ‘এমব্যারাসিং সুপ’-এ পড়ার অভ্যাসী বলে পরিচিত।
এবারের ঘটনাটা তার সেই লিস্টে নতুন একটা অধ্যায় যোগ করেছে। ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফিতা কেটে ভিতরে ঢোকেন, হাসিমুখে ছবি তোলেন, লোকজন তালি দিচ্ছে। আউটলেটে পিজ্জা হাটের লাল ছাদের লোগো, ব্র্যান্ডিং সবই ছিল দেখে মনে হচ্ছিল আসল ফ্র্যাঞ্চাইজি।
কিন্তু পিজ্জা হাট পাকিস্তানের অফিসিয়াল স্টেটমেন্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “পিজ্জা হাট পাকিস্তান আমাদের মূল্যবান গ্রাহকদের জানাতে চায় যে, সিয়ালকোট ক্যান্টনমেন্টে সম্প্রতি একটা অননুমোদিত আউটলেট খোলা হয়েছে, যা আমাদের নাম ও ব্র্যান্ডিংয়ের অপব্যবহার করছে। এটা পিজ্জা হাট পাকিস্তান বা ইয়াম! ব্র্যান্ডসের সঙ্গে কোনও সম্পর্কিত নয়।
এতে পিজ্জা হাট ইন্টারন্যাশনালের রেসিপি, কোয়ালিটি প্রোটোকল, ফুড সেফটি বা অপারেশনাল স্ট্যান্ডার্ড মানা হয় না। আমরা এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছি যাতে ট্রেডমার্কের অপব্যবহার বন্ধ হয় এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”পিজ্জা হাট পাকিস্তানের অফিসিয়াল স্টোর লিস্টে সিয়ালকোট ক্যান্টনমেন্টের কোনও আউটলেট নেই।
দেশে তাদের মাত্র ১৬টা অনুমোদিত দোকান ১৪টা লাহোরে, ২টা ইসলামাবাদে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির ঝড় উঠেছে। একজন লিখেছেন, “পাকিস্তানে জিটিএ ৬-এর আগেই ফেক পিজ্জা হাট পেয়ে গেলাম!” আরেকজন বলেছেন, “খাজা আসিফ ফিতা কাটলেন, হাসলেন, চলে গেলেন পরে ব্র্যান্ড বলল, ‘এটা আমাদের নয়’।”
অনেকে তাকে ‘ডাম্ব বুমার’ বা ‘ফেক এমএনএ’ বলে ট্রোল করছেন। প্রশ্ন উঠেছে যে, একজন সিনিয়র মন্ত্রী কীভাবে এমন একটা কমার্শিয়াল আউটলেট উদ্বোধন করেন যার অথেন্টিসিটি যাচাই করেন না? কেউ কেউ বলছেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফাস্টফুডের অথেন্টিকিটি চেক করতে পারেন না, তাহলে দেশের নিরাপত্তা কীভাবে দেখবেন?”
