সৌদি মডেলে এবার ঢাকা-ইসলামাবাদ প্রতিরক্ষা জোট? দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ

গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ঢাকার সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন ধরনের সঙ্কেত পাঠাচ্ছে। পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, নৌবাহিনী প্রধান…

Pakistan-Bangladesh Military Deal

গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ঢাকার সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন ধরনের সঙ্কেত পাঠাচ্ছে। পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, নৌবাহিনী প্রধান থেকে ISI প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক-সবাই ঢাকায় এসেছেন, সেই সময়ে যখন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মুহম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের নীতি ভারত থেকে ইসলামাবাদের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।

Advertisements

এই ভ্রমণ শুধুমাত্র সফর নয়। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যেই পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থাপনের দিকে এগোচ্ছে। এটি সেই চুক্তির মতো হবে, যা ইসলামাবাদ সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষর করেছে।

   

সেপ্টেম্বর মাসে, সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল—“যদি কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণ ঘটে, তা উভয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।” পাকিস্তানে এটি ভারতের জন্য কৌশলগত প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হয়েছিল। বিশেষ করে মে মাসে ‘অপারেশন সিনদুর’-এর সময় ভারতীয় চাপ মোকাবিলায় ইসলামাবাদ এই চুক্তির ওপর নির্ভর করে।

পাক-বাংলাদেশ নৃত্য:

বর্তমানে গুঞ্জন চলছে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে নিয়ে একই ধরনের NATO-স্টাইল প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায়। স্বাধীনতার পর থেকে এটি হবে প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ। ইতিহাসের সমান্তরালে, পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখ লাখ বাঙালিকে হত্যা ও গণহত্যা করেছিল।

চূড়ান্ত নির্বাচনের আগে, দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে বলে মিডিয়ার সূত্রে জানা গেছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বুদ্ধিমত্তা বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া ও অস্ত্র চুক্তিতে প্রবেশ করতে পারবে। তবে, চুক্তিতে পারমাণবিক সহযোগিতা থাকবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদি থাকে, তবে এটি ভারতের জন্য উদ্বেগজনক হবে।

ভারতের নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে শারিফ ওসমান হাদির হত্যার পর দেশজুড়ে উভয়প্রান্তে ভারতবিরোধী আবহ তৈরি হওয়ায়, পাকিস্তান এই চুক্তি বাস্তবায়নে সুবিধা পেতে পারে। সম্প্রতি পাকিস্তানের শাসক দলটির এক নেতা দাবি করেছেন, ভারত যদি বাংলাদেশে আক্রমণ করে, পাকিস্তান সম্পূর্ণ সহায়তা দিয়ে ঢাকার পাশে দাঁড়াবে। পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতা কামরান সাইদ উসমানি বলেন, “যারা বন্দর ও সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ করে, তারা বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ করে।”

চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে এটি ভারতের পূর্ব সীমান্তে একটি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে পারমাণবিক সহযোগিতা থাকলে। পাকিস্তানের “দুই-মুখী যুদ্ধ” কৌশলের সঙ্গে এটি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ—পশ্চিম ও পূর্ব সীমান্তে একসঙ্গে চাপ সৃষ্টি করা।

বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে, যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেয় এবং ভারত-বান্ধব বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে চুক্তি স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ জামাত ইসলামী পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সহায়ক হিসেবে পরিচিত। এই কারণে পাকিস্তান চুক্তি দ্রুত ইউনূস সরকারের অধীনে কার্যকর করতে চাচ্ছে, যা ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পাকিস্তান–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সমঝোতার এই দিক, ভারতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শক্তি সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisements