পাকিস্তান কি আদৌ ইসলামি রাষ্ট্র? বিস্ফোরক স্কলার

ইসলামাবাদ:পাকিস্তানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন বিশিষ্ট (Mufti Shumail Nadwi)ইসলামি চিন্তাবিদ ও পণ্ডিত মুফতি শুমাইল নাদভি। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন,…

mufti-shumail-nadwi-pakistan-not-islamic-state

ইসলামাবাদ:পাকিস্তানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন বিশিষ্ট (Mufti Shumail Nadwi)ইসলামি চিন্তাবিদ ও পণ্ডিত মুফতি শুমাইল নাদভি। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, পাকিস্তানে কোনও প্রকৃত ইসলামি শাসনব্যবস্থা নেই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটিকে ইসলামি রাষ্ট্র বলা যায় না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

Advertisements

মুফতি শুমাইল নাদভির বক্তব্য অনুযায়ী, একটি রাষ্ট্রকে ইসলামি বলা যায় তখনই, যখন সেখানে ইসলামের মৌলিক আইন ও নীতিগুলি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর থাকে। কিন্তু পাকিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতিতে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ইসলামি রাষ্ট্র মানে শুধু নাম বা সংবিধানে ইসলাম শব্দটি থাকলেই হয় না। সেখানে ন্যায়বিচার, সামাজিক সমতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং শরিয়তভিত্তিক আইন কার্যকর থাকতে হয়।”

   

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অপমানে গর্জে উঠলেন বিজেপি বিধায়ক

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে ইসলামি আইন প্রয়োগের কথা বহুবার বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। সাধারণ মানুষের জীবনে ন্যায়বিচারের অভাব, রাজনৈতিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সামাজিক বৈষম্য এই সবই প্রমাণ করে যে ইসলামি রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য সেখানে অনুপস্থিত। তাঁর মতে, ইসলাম কখনও কেবল শাসকদের মুখের বুলি হতে পারে না; তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হওয়াই আসল বিষয়।

মুফতি শুমাইল নাদভি মনে করেন, পাকিস্তানে ইসলামকে অনেক সময় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রেই ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানো হয়েছে, কিন্তু ইসলামি ন্যায়বোধ বা নৈতিকতার বাস্তব প্রয়োগ হয়নি। তাঁর মন্তব্যে উঠে আসে, “যেখানে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বাড়ছে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বিচারব্যবস্থা রাজনৈতিক চাপে নত হয়, সেখানে ইসলামি শাসনের কথা বলা আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া কিছু নয়।”

এই বক্তব্য সামনে আসতেই পাকিস্তানের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সাহসী ও বাস্তবসম্মত বলে সমর্থন জানালেও, অন্য একটি অংশ তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে। কিছু ইসলামপন্থী সংগঠনের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং ইসলামবিরোধী শক্তিকে সুযোগ করে দেয়।

তবে সমর্থকদের মতে, মুফতি শুমাইল নাদভি কোনও বিদেশি দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং ইসলামের মূল শিক্ষার আলোকে পাকিস্তানের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত ইসলামি রাষ্ট্র কেবল শাস্তির আইন নয়, বরং ন্যায়, মানবিকতা এবং জবাবদিহিতার উপর দাঁড়িয়ে থাকে যা বর্তমানে পাকিস্তানে অনুপস্থিত।

এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক অসন্তোষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আরও গভীর প্রশ্ন তুলে দিল।

ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপরিচয়ের দাবি কতটা বাস্তব, আর কতটা রাজনৈতিক স্লোগান এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশটির জনমানসে। সব মিলিয়ে, মুফতি শুমাইল নাদভির মন্তব্য শুধু একটি ধর্মীয় মতামত নয়, বরং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, শাসনব্যবস্থা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে এক বড়সড় আত্মসমালোচনার দরজা খুলে দিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্লেষকদের একাংশ।

Advertisements