Speculation surrounds Modi-Yunus meeting at BIMSTEC
আজ, ৩ এপ্রিল থেকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে ষষ্ঠ বিমসটেক (bimstec) (বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলির জন্য বহুক্ষেত্রীয় প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা) শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র জল্পনা চলছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলেও, ভারত এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। এই সাক্ষাৎ যদি হয়, তবে গত বছর আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এটিই হবে মোদি ও ইউনূসের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।
SSC Scam Verdict: ২৬ হাজার চাকরি বাতিল, বহাল থাকল সোমা দাসের চাকরি
বিমসটেক (bimstec) সম্মেলনের পটভূমি
প্রধানমন্ত্রী মোদি আজ থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন এবং তাঁকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। এই দুই দিনের সফরে তিনি থাই প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন এবং বিমসটেক (bimstec) নেতাদের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশ এই সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, এবং ইউনূস এই ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ নেবেন।
বাংলাদেশের অনুরোধ ও ভারতের অবস্থান
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ইউনূসের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম গত মাসে জানিয়েছিলেন, “আমরা বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের মধ্যে একটি বৈঠকের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। আমাদের আশা আছে এটি সম্ভব হবে।” তবে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও এই বৈঠকের বিষয়ে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য দেয়নি। ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং চরমপন্থীদের মুক্তির ঘটনায় ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে মোদি ও ইউনূসের সাক্ষাৎ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দিশা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান উত্তেজনার কারণে এই বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে।
সম্ভাবনা ও জল্পনা
বাংলাদেশের প্রতিনিধি খলিলুর রহমান গত সপ্তাহে বলেছিলেন, “মোদি ও ইউনূসের সাক্ষাতের সম্ভাবনা খুব বেশি। আমরা এই বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছি।” তবে, ভারতীয় সূত্রে বলা হয়েছে, সম্মেলনের ব্যস্ত সময়সূচির কারণে এই বৈঠক নাও হতে পারে। আজ সন্ধ্যায় থাই প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত একটি সংবর্ধনায় সব নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত থাকবেন, যেখানে মোদি ও ইউনূসের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চয়তা নেই।
বিশ্লেষকদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাক্ষাৎ না হলে তা দুই দেশের সম্পর্কে আরও দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “ইউনূস গত মাসে চিনে সফর করেছেন এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারত যদি এই সুযোগ এড়িয়ে যায়, তবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।” অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন, ভারত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে, কারণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্য ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
সম্মেলনের গুরুত্ব
বিমসটেক (bimstec) সম্মেলনটি আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মঞ্চ। মোদি তাঁর প্রস্থান বিবৃতিতে বলেছেন, “এই সম্মেলন বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের উন্নয়ন ও সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি বড় সুযোগ, কারণ তারা এই মঞ্চে নেতৃত্ব দেবে। তবে, মোদি-ইউনূস বৈঠক না হলে এই সম্মেলনের রাজনৈতিক প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
আজ ও আগামীকালের সম্মেলনে মোদি ও ইউনূসের সাক্ষাৎ হবে কি না, তা নিয়ে সবার নজর রয়েছে। এই বৈঠক যদি হয়, তবে তা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি আনতে পারে। আর না হলে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠবে। সময়ই বলবে, এই জল্পনার পরিণতি কী হয়।