ISI র বিস্ফোরণে কাবুলের চাইনিজ রেস্তোরাঁয় মৃত্যূলীলা

কাবুল: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের শহর-ই-নাও এলাকায় সোমবার (Kabul)একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১২-১৫ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণটি গালফারোশি স্ট্রিটে অবস্থিত…

kabul-chinese-restaurant-explosion-shahr-e-naw

কাবুল: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের শহর-ই-নাও এলাকায় সোমবার (Kabul)একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১২-১৫ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণটি গালফারোশি স্ট্রিটে অবস্থিত একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ এবং সংলগ্ন হোটেলে ঘটেছে, যা চীনা নাগরিকদের মধ্যে জনপ্রিয়। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান নিশ্চিত করেছেন যে বিস্ফোরণটি চতুর্থ পুলিশ জেলায় ঘটেছে, এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisements

ইতালীয় দাতব্য সংস্থা EMERGENCY-এর সার্জিক্যাল সেন্টারে ২০ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, বিস্ফোরণটি রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের কাছে ঘটেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় মিডিয়া CCTV জানিয়েছে যে দুজন চীনা নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন, এবং একজন আফগান সিকিউরিটি গার্ড নিহত হয়েছেন।

   

আনোয়ার ইস্যুতে এবার বিরাট পদক্ষেপ বাগানের

কিছু সূত্র বলছে, একজন চীনা নাগরিকসহ ৬ জন আফগান নিহত হয়েছেন। শহর-ই-নাও কাবুলের একটি তুলনামূলক নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত এখানে অফিস, শপিং কমপ্লেক্স এবং বিদেশি দূতাবাস রয়েছে। তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এমন হামলা কমেছে, কিন্তু এখনও ISIS-K (ইসলামিক স্টেট-খোরাসান)-এর মতো গোষ্ঠী সক্রিয়।এই হামলাকে অনেকে চীনা স্বার্থের বিরুদ্ধে লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করছেন।

আফগানিস্তানে চীনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি বাড়ছে খনিজ সম্পদ, পরিকাঠামো প্রকল্প এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে। চীনা নাগরিকরা ব্যবসা, খনন এবং নির্মাণে জড়িত। তালিবানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ভালো হলেও, চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বেইজিং বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চীনা শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তালিবানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তুলেছে।কিছু সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ উঠেছে যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI এর সম্ভাব্য হাত থাকতে পারে।

এই অভিযোগের কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই, কিন্তু আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, TTP (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান)-এর ইস্যু এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC)-এর প্রেক্ষাপটে এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

পাকিস্তান অভিযোগ করে যে আফগান মাটিতে TTP-কে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, আর চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের গভীর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন যে এই হামলা আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা। তবে তালিবান সরকার এখনও কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেনি, শুধু বলেছে তদন্ত চলছে।

এই ঘটনা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা আবার তুলে ধরেছে। তালিবান দাবি করে যে তারা দেশে শান্তি ফিরিয়েছে, কিন্তু ISIS-K-এর মতো গোষ্ঠী এখনও সক্রিয়। চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা হলে বেইজিং-কাবুল সম্পর্কে চাপ পড়তে পারে। চীন আফগানিস্তানে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়, কিন্তু নিরাপত্তা না থাকলে তা কঠিন।

Advertisements