পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার খাইবার জেলার (ISIS)তিরাহ উপত্যকা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আইএসআইএস বা ইসলামিক স্টেটের একটি নতুন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কুখ্যাত জঙ্গি কমান্ডার হাফিজ জুবায়ের মোহেদ। স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সামরিক অভিযানের আড়ালে তিরাহ কার্যত জঙ্গিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
সূত্র জানাচ্ছে, তিরাহ অঞ্চলে সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর হাজার হাজার স্থানীয় পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শতাধিক আইএসআইএস জঙ্গি, হাফিজ জুবায়ের মোহেদের নেতৃত্বে, তিরাহর পাহাড়ি ও অরণ্যঘেরা এলাকায় প্রবেশ করে এবং সেখানে ঘাঁটি গাড়ে। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষের উচ্ছেদের পর পুরো এলাকা কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে, যা জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
ফের কলকাতায় ইডি অভিযান! জালে প্রভাবশালী ব্যাবসায়ী
সবচেয়ে বিতর্কিত অভিযোগ হল এই সামরিক অভিযান আদতে জঙ্গি দমন নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট আইএসআইএস নেতার জন্য অঞ্চল ‘পরিষ্কার’ করার কৌশলগত পদক্ষেপ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, হাফিজ জুবায়ের মোহেদ ও তার অনুগামীদের নিরাপদে বসতি গড়ে তুলতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
হাফিজ জুবায়ের মোহেদের অতীত আরও প্রশ্ন তোলে। জানা যাচ্ছে, তিনি একসময় লস্কর-ই-তৈয়বার সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং লস্কর-ই-তৈয়বা ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করতেন। সেই ব্যক্তি বর্তমানে আইএসআইএস-এর গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠা এই পরিবর্তন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের জটিল সম্পর্কের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
তিরাহ উপত্যকার ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান আইএসআইএস-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গম পাহাড়, গভীর জঙ্গল ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে নজরদারি চালানো কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চল ব্যবহার করে আইএসআইএস সহজেই আফগানিস্তান সীমান্তের দিকে কার্যক্রম বিস্তার করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, তিরাহ থেকে আইএসআইএস-কে পুনরুজ্জীবিত করার এই প্রচেষ্টা শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আইএসআইএস-খোরাসান (ISIS-K) দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানে সক্রিয়, আর তিরাহকে নতুন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হলে তাদের আক্রমণক্ষমতা বহুগুণ বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে, আর তাদের বাড়িঘর, জমিজমা ও জীবিকা পড়ে রয়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তিরাহ উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধুই একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং জঙ্গিবাদ, রাষ্ট্রীয় কৌশল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জটিল সমীকরণের প্রতিফলন। এই অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত না হলে, ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
