তেহরান: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে (Iranian)একটি ভিডিও, যেখানে একজন ইরানি যুবক হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রায় ১২০০ বছর আগে যখন ইসলামের আগমনে ইরানে (পারস্য) জরথুস্ট্রীয় ধর্মাবলম্বীরা চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তখন হিন্দুরা তাদের আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন।
Viral video: An Iranian thanks Hindus for saving them from Islam 1200 years ago. Ratan Tata was from their community.
-> They REJECTED Islam & ran to India. Hindus saved them. Now they are openly fighting against Islam to return to their own native religion: Zoroastrianism!🤯 pic.twitter.com/auOQFJzJVF
— The Analyzer (News Updates🗞️) (@Indian_Analyzer) January 15, 2026
এই সম্প্রদায়ের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন। আজ তারা খোলাখুলি ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের মূল ধর্ম জরথুস্ট্রীয়তায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।এই ঘটনা জরথুস্ট্রীয় সম্প্রদায়ের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ৭ম শতাব্দীতে আরব মুসলিম আক্রমণে সাসানিয়ান সাম্রাজ্যের পতন হয়।
জল্পনার অবসান, ইবুসুকিকে বিদায় জানিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল
জরথুস্ট্রীয় ধর্ম, যা ইরানের রাষ্ট্রধর্ম ছিল, তখন থেকে চরম নির্যাতনের মুখে পড়ে। অগ্নিমন্দির ধ্বংস, ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো, জিজিয়া কর আর ধর্মান্তরণের চাপ এসবের কারণে হাজার হাজার জরথুস্ট্রীয় ইরান ছেড়ে পালান। অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেন, কিন্তু যারা ধর্ম রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, তারা ভারতের দিকে যাত্রা করেন।৮ম-১০ম শতাব্দীর মধ্যে এই শরণার্থীরা গুজরাটের সঞ্জন-এ পৌঁছান।
স্থানীয় হিন্দু রাজা জাদি রানা (জাদভ রানা) তাদের আশ্রয় দেন। ‘কিস্সা-ই-সঞ্জন’ নামক প্রাচীন গ্রন্থে বর্ণিত আছে, রাজা শর্ত দিয়েছিলেন তারা স্থানীয় ভাষা গ্রহণ করবেন, মহিলারা সাড়ি পরবেন, রাতে বিয়ে করবেন, অস্ত্র বহন করবেন না এবং ধর্ম প্রচার করবেন না। জরথুস্ট্রীয় প্রতিনিধিরা এক কাপ দুধে চিনি মিশিয়ে দেখান আমরা সমাজে মিশে যাব, সমাজকে মিষ্টি করব কিন্তু পরিবর্তন করব না।
এই ‘চিনি-দুধ’ উপমা আজও পার্সি সম্প্রদায়ের প্রতীক।ভারতে এসে তারা ‘পার্সি’ নামে পরিচিত হন। হিন্দু রাজাদের সহায়তায় তারা ধর্ম, সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষা করেন। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ আমলে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি করেন। টাটা, গোডরেজ, ওয়াডিয়া এমন অনেক শিল্প গোষ্ঠী পার্সিদের। রতন টাটা, যিনি সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন, এই সম্প্রদায়ের গর্ব।
তাঁর পূর্বপুরুষরা ইরান থেকে এসেছিলেন, জরথুস্ট্রীয় ধর্মাবলম্বী। টাটা গ্রুপের মাধ্যমে তিনি ভারতের অর্থনীতি ও সমাজসেবায় অবদান রেখেছেন।আজ ইরানে জরথুস্ট্রীয়দের সংখ্যা মাত্র ১৫-২৫ হাজার। ইসলামিক রিপাবলিকের পর থেকে নির্যাতনের কারণে অনেকে পালিয়েছেন।
কিন্তু কিছু ইরানি যুবক এখন জরথুস্ট্রীয়তায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেন, ইসলাম আরবি আগ্রাসনের ফল, তাদের আসল ধর্ম জরথুস্ট্রীয়। এই পুনরুজ্জীবনের পিছনে ভারতের পার্সিদের অবদানও রয়েছে তারা শতাব্দী ধরে ইরানি ভাই-বোনদের সাহায্য করেছেন।


