India, Sri Lanka sign pact: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিন। ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বাড়াচ্ছে বেজিং। এই আবহে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহ একগুচ্ছ ইস্যুতে মৌ চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত। তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর প্রথম শ্রীলঙ্কা সফরে শনিবার কলম্বো পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে গার্ড অফ অনারে তাঁকে সম্মান জানানো হয়। সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌ সাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল প্ররিকাঠামো, স্বাস্থ্য এবং বাণিজ্য খাতে চুক্তি হয়েছে ভারত-শ্রীলঙ্কার। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের প্রভাব বিস্তারের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলি সাক্ষর হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকের কথোপকথোনের পর এই প্রথম ভারত-শ্রীলঙ্কা এত বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি সাক্ষর করেছে। প্রতিরক্ষা ছাড়াও আরও কিছু চুক্তিতে সই করেছে ভারত-শ্রীলঙ্কা। যার মধ্যে একটি হল ত্রিনকোমালিকে জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলে ভারতের বহু-ক্ষেত্রীয় অনুদান সহায়তা প্রদানের জন্য আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই রাষ্ট্রনেতা ভার্চুয়ালি সামপুর সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন।
গত বছর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমালা দিশানায়েক দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রাধনমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এটি প্রথম সফর। এছাড়াও ২০২৪ এ দিশানায়েকের মেয়াদ শুরু হওয়ার পর এটি কোনও বিদেশী নেতার প্রথম সফর। উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে দিশানায়েক ভারত সফর করেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম সফর।
২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত হয় এই দ্বীপ দেশ। সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত। এই সফরের সময় শ্রীলঙ্কা পুনর্গঠনে ভারতের সহায়তার উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। সংকটের সময় শ্রীলঙ্কাকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা করে ভারত। এখানেই থামেনি ভারতের সাহায্য। ভারত ঋণ পুনর্গঠন এবং ঋণের সুদের হার কমাতে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে সহায়তা অব্যাহত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ভারত।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ত্রিনকোমালিতে ১২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কর্পোরেশন এবং শ্রীলঙ্কার সিলন বিদ্যুৎ বোর্ডের মধ্যে যৌথ উদ্যোগে স্বাক্ষর করেছেন। এটি দ্বীপরাষ্ট্রটির বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা পূরণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন তামিলনাড়ু শ্রীলঙ্কা থেকে কাচাথিভু পুনরুদ্ধারের জন্য একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। যা ২৮৫ একর দ্বীপের আশেপাশে মাছ ধরার অধিকার নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের কারণে রাজ্যের মাঝিদের জন্য এটি একটি আবেগঘন বিষয়।