
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ফের একবার একাকী সেলে (সলিটারি কনফাইনমেন্ট) সরিয়ে রাখা হয়েছে। আদিয়ালা জেলের একাধিক শীর্ষ সূত্র CNN-News18-কে নিশ্চিত করেছে, গত নয় দিন ধরে তাঁকে তাঁর পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে কোনও সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও বোনের মন্তব্যের পরেই ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞা’
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর অভিযোগ, খান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ আখ্যা দিয়ে যে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেছিলেন, তার পর থেকেই জেল প্রশাসন তাঁর উপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। সেই সঙ্গে, ইমরানের বোন ড. উজমা খানের সাম্প্রতিক মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনের পরেও অতিরিক্ত চাপে আসে প্রশাসন। তার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সব সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি দলের।
আদিয়ালা জেলের বাইরে পরিবারের বিক্ষোভ, শীতের রাতে পানি কামান ও লাঠিচার্জ
মঙ্গলবার গভীর রাতে আদিয়ালা জেলের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বসেন PTI কর্মী এবং ইমরান খানের পরিবার–তাঁর বোনেরা আলীমা খান, নরিন খান এবং উজমা খানও উপস্থিত ছিলেন। প্রবল শীতে তাঁরা ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিতে জোর দাবি জানাতে থাকেন।
কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঞ্জাব পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর ক্র্যাকডাউন চালায়। পুলিশ পানি কামান ব্যবহার করে এবং পরে লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। ইমরানের বোনেদের পানি কামানের জোরে কাঁপতে কাঁপতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলেও জানান উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পুলিশ পরে জেলের বাইরে PTI সমর্থকদের অস্থায়ী ক্যাম্প ভেঙে দেয় এবং বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি ওঠে।
সেনাপ্রধানকে অভিযুক্ত করলেন আলীমা খান
এর আগে আলীমা খান অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ভাইয়ের ‘নির্যাতন’ ও চলমান একাকী সেলে আটকে রাখার বিষয়টির জন্য জেনারেল আসিম মুনির ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। তাঁর ভাষায়, “আর্মি চিফ জেদ ধরে ইমরানের জীবন নরক করে তুলছেন।”
‘অসাংবিধানিক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, PTI-র কড়া সমালোচনা
PTI-র দাবি, পরিবারের সদস্য তো বটেই, সিনিয়র দলীয় নেতৃত্বকেও ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। দল এই পদক্ষেপকে “অসাংবিধানিক এবং স্পষ্টতই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে বর্ণনা করেছে। এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত পাঞ্জাব পুলিশ বা কেন্দ্রীয় সরকার কোনও মন্তব্য করেনি।
ইমরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হতে পারে
CNN-News18 এর আগের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার এবং সামরিক নেতৃত্বের মতে, ইমরান একাধিক ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছেন—যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ, বিদেশ নীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দেশীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট করার মতো পদক্ষেপ।










