
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট নিয়ে ফের চাঞ্চল্যকর ( Pakistan mental health crisis)মন্তব্য করলেন দেশের প্রবীণ সাংবাদিক ও জিও নিউজের পরিচিত মুখ হামিদ মির। সম্প্রতি এক আলোচনাচক্রে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৩ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ৮ কোটি মানুষ, বর্তমানে মানসিকভাবে অসুস্থ বা গভীর মানসিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
হামিদ মিরের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান বাস্তবতা অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা মানুষকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি জাতি যখন প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে বাঁচে, তখন তার প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে নয়, মানুষের মনের উপরও পড়ে। পাকিস্তানে ঠিক সেটাই হচ্ছে।”
ISL: টুর্নামেন্টের ফরম্যাট নিয়ে বিশেষ আলোচনা, শুক্রবার ফের বৈঠক
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ঋণের বোঝা সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। হামিদ মিরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আর্থিক চাপই বহু মানুষের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং মানসিক রোগের জন্ম দিচ্ছে।
শুধু অর্থনীতি নয়, রাজনৈতিক অস্থিরতাও এই মানসিক সংকটকে আরও গভীর করছে বলে মনে করছেন তিনি। পাকিস্তানে বারবার সরকার পরিবর্তন, সেনা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংঘাত, গ্রেপ্তার, বিক্ষোভ সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের স্থায়ী ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হামিদ মির বলেন, “মানুষ জানে না আগামীকাল কী হবে। এই অনিশ্চয়তাই ধীরে ধীরে মানুষকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলছে।”
নিরাপত্তা পরিস্থিতিও একইভাবে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জঙ্গি হামলা, টার্গেট কিলিং, ধর্মীয় ও জাতিগত সংঘর্ষ এসব ঘটনা পাকিস্তানে নতুন নয়। কিন্তু লাগাতার এমন পরিবেশে বসবাস করতে করতে মানুষের মনে আতঙ্ক স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। হামিদ মিরের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও সহিংসতার মধ্যে থাকা একটি সমাজ মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে না।
এই বক্তব্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ হামিদ মিরের মন্তব্যকে “অতিরঞ্জিত” বলে দাবি করলেও, অনেকেই বলছেন এই কথার মধ্যে বাস্তবতার ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুরবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পাকিস্তানে মানসিক রোগের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং বা সচেতনতার অভাব বহুদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, হামিদ মিরের বক্তব্য হয়তো শব্দচয়নের দিক থেকে বিতর্কিত, কিন্তু তিনি যে সমস্যার দিকে আঙুল তুলেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশের মতো পাকিস্তানেও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার রয়েছে। ফলে বহু মানুষ চিকিৎসা নিতে চায় না, বা সুযোগ পেলেও তা গ্রহণ করতে পারে না।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি যে শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকটেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি গভীর সামাজিক ও মানসিক সংকটের দিকেও এগোচ্ছে হামিদ মিরের এই মন্তব্য সেই কথাই নতুন করে সামনে এনে দিল। এখন দেখার, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ও সমাজ এই সতর্কবার্তাকে কতটা গুরুত্ব দেয়।





