মার্কিন ভিসার নয়া নিয়মে চরম উদ্বেগে ভারতীয়রা: শুরু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের যাচাই!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসী কর্মীদের জন্য বহুল আকাঙ্ক্ষিত H-1B ভিসা ব্যবস্থায় নতুন নিরাপত্তা নীতি কার্যকর হওয়ার আগেই ভারতীয় কমিউনিটিতে তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্টেট…

H-1B Visa Social Media Check

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসী কর্মীদের জন্য বহুল আকাঙ্ক্ষিত H-1B ভিসা ব্যবস্থায় নতুন নিরাপত্তা নীতি কার্যকর হওয়ার আগেই ভারতীয় কমিউনিটিতে তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর থেকে H-1B কর্মী এবং তাঁদের H-4 নির্ভরশীলদের সমস্ত সোশ্যাল-মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ‘পাবলিক’ করে রাখতে হবে, যাতে কনস্যুলার অফিসারেরা আবেদনকারীর অনলাইন উপস্থিতি সরাসরি এবং গভীরভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।

Advertisements

এই নির্দেশ এমন সময়ে এল, যখন H-1B অনুমোদনের সাত দশমিক শূন্য শতাংশেরও বেশি এবং H-4 EAD ধারকদের প্রায় নব্বই শতাংশই ভারতীয় নাগরিক, যাদের অনেকের জীবন, কর্মজীবন, সন্তানের পড়াশোনা এবং গৃহঋণের দায়বদ্ধতা ভিসা-স্থিতির ধারাবাহিকতার উপরই নির্ভরশীল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন নীতি তাঁদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছে।

   

ভারতীয় পেশাদারদের মধ্যে আতঙ্ক

ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা বলছেন, সোশ্যাল-মিডিয়া স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক হওয়ায় ভারতীয় পেশাদারদের মধ্যে “বাস্তব আতঙ্ক” তৈরি হয়েছে। পাবলিক প্রোফাইলে পুরনো রাজনৈতিক মন্তব্য, কর্মক্ষেত্র নিয়ে অসন্তোষ, অথবা LinkedIn–এ সামান্য রেজ্যুমে-বৈসাদৃশ্যও এখন অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বহু প্রযুক্তি সংস্থা তাই কর্মীদের সোশ্যাল প্রোফাইল পর্যালোচনা করতে, রাজনৈতিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে এবং নথিপত্রে সুনির্দিষ্ট পেশাদার পরিচয় বজায় রাখতে নির্দেশ দিচ্ছে।

একাধিক ভারতীয় কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকার বাতিল, নতুন তারিখ সরাসরি মার্চ ২০২৬ H-1B Visa Social Media Check

টাইমস অব ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন বলছে, হায়দরাবাদ ও চেন্নাই-সহ ভারতের বিভিন্ন মার্কিন কনস্যুলেটে ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ হঠাৎই বাতিল হয়ে গেছে। বহু আবেদনকারী জানতে পেরেছেন, ডিসেম্বরে নির্ধারিত স্লট সরাসরি মার্চ ২০২৬-এ ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

ফলে নতুন কর্মী নিয়োগে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে। ভারতে স্বল্পসময়ের জন্য আত্মীয়কে দেখতে এসে আটকে পড়েছেন বহু H-1B ধারক; কারও পরিবার ভারতে, কারও চাকরি আমেরিকায়—দুই মহাদেশের মাঝেই বাড়ছে অনিশ্চয়তার দেয়াল।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের দাবি, ছাত্র ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই চালু থাকা অনলাইন-প্রোফাইল যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে এখন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করা হয়েছে। তাঁদের কথায়,
“প্রতিটি ভিসা-নির্ধারণই জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত।” আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে,“একটি মার্কিন ভিসা কোনও অধিকার নয়, বরং একটি প্রিভিলেজ।” তাই আবেদনকারী আমেরিকার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করতে পারেন কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোরতা।

ভারতে মার্কিন দূতাবাসের কঠোর বার্তা: পুরনো তারিখে হাজির হলে প্রবেশ নিষিদ্ধ

এই অস্থিরতার মধ্যেই মঙ্গলবার সতর্কতা জারি করল মার্কিন দূতাবাস। যাঁদের সাক্ষাৎকারের তারিখ নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে, তাঁদের পুরনো তারিখে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হতে নিষেধ করা হয়েছে।

এক্স পোস্টে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “যদি আপনাকে ইমেল করে জানানো হয়ে থাকে যে আপনার সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তিত, তবে নতুন তারিখেই আসুন। পুরনো তারিখে এলে আপনাকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না।”

ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি স্টিভেন ব্রাউন জানিয়েছেন, এই পুনর্নির্ধারণ এখন ব্যাপক আকার নিয়েছে। “সোশ্যাল-মিডিয়া যাচাইয়ের জন্যই আগামী কয়েক সপ্তাহের বহু অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে মার্চে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—মিশন ইন্ডিয়া এটি নিশ্চিত করেছে,” বলেন তিনি।

প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী ফল: দীর্ঘায়িত অপেক্ষা, বৃদ্ধি পাচ্ছে অভিবাসী-উদ্বেগ

ইতিমধ্যেই ভিসা সাক্ষাৎকার পাওয়ার অপেক্ষা বহু ক্ষেত্রে মাস ছাড়িয়েছে। তার মধ্যে নতুন নিরাপত্তা নীতি ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের ভবিষ্যৎকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি বাস্তবে আরও ধীর, জটিল ও বিক্ষিপ্ত ভিসা-প্রক্রিয়ার সূচনা করতে পারে—যার সরাসরি অভিঘাত পড়বে ভারতীয় প্রযুক্তি শিল্প এবং দুই দেশের মানবসম্পর্কের উপর।

Advertisements