Gunpowder Plot: ব্রিটিশ সংসদ ভবনে বিস্ফোরণ ছক বানচাল, ‘গানপাউডার প্লট’ এক অন্য জিহাদ

39

প্রসেনজিৎ চৌধুরী:

ভয়াবহ ষড়যন্ত্র। পুরো সংসদ ভবন বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার ছক বানচাল। ষড়যন্ত্রীরা ধৃত। এই অন্তর্ঘাতের পিছনে কারা? (Gunpowder Plot)

এভাবে অতিসুরক্ষিত সংসদ ভবনের মধ্যে বিস্ফোরক রেখে আসার ঘটনায় বিশ্ব শিহরিত হয়েছে-বার বার। একটু এদিক হলেই, সুযোগের ব্যবহার করতে পারলেই  সংসদ ভবন ধসে শতাধিক সদস্যের জীবন চলে যেত। ভয়াবহ এই ষড়যন্ত্র বানচাল করেছে ব্রিটেনের নিরাপত্তা রক্ষীরা।

এতদূর পর্যন্ত যা পড়লেন সেটি চারশ বছর আগের এক নাশকতার পরিকল্পনার পরে তৎকালীন লন্ডনের বিভিন্ন পুরনো নথিপত্র ও পুরনো বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের নির্যাস। ব্রিটেনে এই ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁসের নাম-‘Gunpowder Plot’ (গানপাউডার প্লট)।

সংসদে হামলা ভারতেও হয়েছে। ইরানেও হয়েছে। সবই ছিল সন্ত্রাসবাদের নজির। কিন্তু ব্রিটেনের পার্লামেন্টে যে বিস্ফোরণ ঘটানোর ছক করা হয়েছিল সেটি ছিল ধর্মীয়-শাসনতান্ত্রিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি ‘ব্যর্থ বিপ্লব’। চারশ বছরের বেশি সময় ধরে এই নাশকতার চেষ্টাকে কেউ সন্ত্রাসবাদ/জঙ্গি কার্যকলাপ বলে মনে করেন না। বিস্ফোরণে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট উড়িয়ে দেওয়ার এই ভয়াবহ নাশকতার চেষ্টার দিনটি আজও বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।

মনে রেখ, তবু মনে রেখ»»আজ ৫ নভেম্বর!

১৬০৫ সালের ৫ নভেম্বর এক আতঙ্কের তারিখ হয়েই চিহ্নিত। এই দিনেই ব্রিটেনের পার্লামেন্টে তৎকালীন ইংল্যান্ডেশ্বর ১ম জেমস ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদকে একসাথে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

 “Remember, remember! The fifth of November”

সপ্তদশ শতকের দুনিয়া। লন্ডন শহর। সেদিন ৫ নভেম্বর। রাজা প্রথম জেমস সিংহাসনে বসে রাজকার্য পরিচালনা করবেন। রাজ প্রহরীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যে যার জায়গায়। মন্ত্রীরা চলে এসেছেন। হঠাৎ জানা গেল আপাতত সব বন্ধ। চারিদিকে রক্ষীতে ছয়লাপ। ইতি উতি ভয়-কী জানি কী হয়। পরে জানা গেল আর একটু এদিক ওদিক হলেই সবাই একসাথে বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতেন। সবাইকে খুনের ছক করা হয়েছিল।

এক চক্রান্তকারী গাই ফক্‌স (Guy Fawkes) ধরা পড়ে যায়। তার এমন উদ্দ্যেশ্য কেন তা জানতে চলে বিশেষ জেরা। ভয়াবহ নির্যাতনের পর সব কবুল করে গাই ফক্‌স। তার দেওয়া বয়ানে ধরা পড়ে আরও এক চক্রান্তকারী রবার্ট ক্যাটসবি।

গানপাউডার প্লট তদন্তের সূত্র ধরে পুরনো নথি থেকে জানা যাচ্ছে, রবার্ট ক্যাটসবি ছিলেন একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান।  আর গাই ফকস ছিলেন একজন সেনা সদস্য। দুজনের লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় অজুহাতে অত্যাচারের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ (বিদ্রোহ) পরিচালনা করা। এর জন্য পুরো ব্রিটিশ সংসদ ভবনটি উড়িয়ে দিতে হবে এমনই ছক করা হয়েছিল। গান পাউডার, কাঠ ও বারুদ সহ ধরা পড়েন তারা।

সেই সময়ে খ্রিষ্টানদের মাঝে প্রোটেস্ট্যান্ট, ক্যাথলিক ও অর্থোডক্সপন্থীরা বিভক্ত। ব্রিটেনের ক্যাথলিকরা রোমের পোপ অনুগত। তারা কোনওভাবেই ধর্মীয় নিয়মে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের কর্তৃত্ব মানতে নারাজ। রাজা প্রথম জেমসের নির্দেশে শুরু হয় রোম অনুগতদের উপর নির্যাতন। যে কোনও তুচ্ছ কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া শুরু হয়। জন্ম নেয় ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ থেকে গানপাউডার দিয়ে সংসদ ভবনে বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র হয়েছিল।

অসফল এই ষড়যন্ত্রের পর্দা উঠতেই আর দেরি করেনি ব্রিটেনের রাজামশাই। শত্রুর শেষ রাখতে নেই-এমন আপ্তবাক্য মাথায় রেখে  গাই ফকস ও রবার্ট ক্যাটসবিকে গুলি করে মারা হয়। তাদের সহযোগীদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

নভেম্বরের ৫ তারিখ এমনই ছিল। এও এক সংসদ ভবন হামলার দিন।

(সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে পান। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram এবং Facebook পেজ)