ভূমিকম্পের পরিস্থিতিতে মায়ানমারের পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (donald trump) শুক্রবার মায়ানমারের জন্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই দেশটি সম্প্রতি একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে, যার ফলে ১৪৪ জনের মৃত্যু…

Donald trump stands by Mayanmar

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (donald trump) শুক্রবার মায়ানমারের জন্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই দেশটি সম্প্রতি একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে, যার ফলে ১৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

   

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা সাহায্য করব।” মায়ানমারের পুনরুদ্ধারে মার্কিন সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রদানের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এই আশ্বাস দেন। এর আগে সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, থাইল্যান্ডে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে সহায়তার জন্যও দল পাঠানো হয়েছে, যেখানে এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে। তবে, এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

Advertisements

আরো দেখুন আরসিবির দাপটে সিএসকে-র পতন, পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে বিরাট বাহিনী

ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলা

শুক্রবার বিকেলে মায়ানমারের কেন্দ্রীয় অংশে সাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর ৬.৪ মাত্রার একটি আফটারশক সংঘটিত হয়। এই ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের কাছাকাছি এলাকায়ও অনুভূত হয়। মায়ানমারে ভবন ধসে পড়া, সেতু ভেঙে যাওয়া এবং রাস্তায় ফাটল ধরার মতো ঘটনা ঘটেছে। ব্যাঙ্ককে একটি ৩০ তলা স্কাইস্ক্র্যাপারও ভেঙে পড়েছে।

মায়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৩২ জন আহত হয়েছেন। তবে তিনি বলেন, উদ্ধার কাজ চলমান থাকায় মৃত ও আহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। থাইল্যান্ডে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। মায়ানমার এখন এই ভূমিকম্পের মারাত্মক প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

জান্তার সাহায্যের আহ্বান

মায়ানমারের জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে দেশটির অবকাঠামো এবং জনজীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষদের বাঁচাতে কাজ করছে। কিন্তু সীমিত সংস্থান এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তাদের কাজে বাধা পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি মায়ানমারের জন্য একটি বড় আশা জাগিয়েছে।

থাইল্যান্ডের ক্ষয়ক্ষতি

থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি উঁচু ভবনগুলোতে ক্ষতি করেছে। ৩০ তলা একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনা শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ব্যাঙ্কক সাধারণত ভূমিকম্পের জন্য পরিচিত নয়, তাই এই ঘটনা স্থানীয়দের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন সাহায্যের ঘোষণা 

ট্রাম্পের (donald trump) এই প্রতিশ্রুতি এমন সময়ে এসেছে যখন মায়ানমার ও থাইল্যান্ড উভয়ই এই দুর্যোগের পরিণতি মোকাবিলায় লড়াই করছে। তিনি বলেন, “আমরা মায়ানমারকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমাদের সংস্থাগুলো শীঘ্রই কাজ শুরু করবে।” তবে, সাহায্যের ধরন বা পরিমাণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এতে আর্থিক সহায়তা, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডেও সাহায্য পৌঁছানোর জন্য দল পাঠানো হয়েছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে এটি দেখায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের দুটি দেশের জন্যই সহায়তা প্রদানে আগ্রহী। থাইল্যান্ডে ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্কের কারণে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

মায়ানমারের বর্তমান অবস্থা

মায়ানমারে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সাগাইং অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলছে। ভবন, সেতু এবং রাস্তার ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। মিন অং হ্লাইং বলেন, “আমরা এখনও সব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছতে পারিনি। মৃত ও আহতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের দৃশ্য দেখা গেছে। কিন্তু সীমিত সরঞ্জাম এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার কারণে উদ্ধার কাজে বিলম্ব হচ্ছে। মার্কিন সাহায্য এই প্রচেষ্টায় গতি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের (donald trump) আন্তর্জাতিক সাড়া 

মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের এই দুর্যোগ বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অন্যান্য দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সাহায্যের কথা বিবেচনা করছে। ভূমিকম্পের পরবর্তী ঝাঁকুনির আশঙ্কা এখনও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মায়ানমারের জনগণ এখন এই ধ্বংস থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করছে। ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য একটি আশার আলো হলেও, সাহায্য কবে এবং কীভাবে পৌঁছাবে, তা এখনও অস্পষ্ট। এই ঘটনা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্ববাসীর একত্রিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।