
ঢাকা: বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের (Udichi Chhayana vandalism)উপর হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক উঠে এসেছে। বিখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এবং ছায়ানট দাবি করেছে যে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র নেতারা তাদের প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের জন্য উসকানি দিয়েছেন। এনসিপি গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের পরামর্শে এমন অভিযোগও উঠেছে।
এর মধ্যেই রাস্তায় প্রতিবাদকারীরা স্লোগান তুলছেন, ‘আমরা আর ইউনুস সরকার চাই না’। এই ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পরপরই ঢাকায় প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমের অফিস এবং ছায়ানট ও উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ হয়।
ভারতকে রাশিয়ার বড় প্রস্তাব…৩টি সাবমেরিন দেবে পুতিন
ছায়ানটের ধানমন্ডির ভবনে হামলাকারীরা আসবাবপত্র বাইরে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়, চলে লুটপাট। উদীচীর টপখানা রোডের অফিসও একইভাবে ধ্বংস করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে এসব করেছে এবং ছায়ানটকে ‘ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচারক’ বলে অভিযোগ করেছে।এই হামলার পর ছায়ানট এবং উদীচী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, এনসিপির কিছু নেতা এই উসকানি দিয়েছেন।
তাঁরা বলছেন, এনসিপির নেতারা হাদির মৃত্যুকে কাজে লাগিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করেছেন। এনসিপি গঠিত হয়েছে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, জুলাই বিপ্লবের ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে। নাহিদ ইসলামের মতো নেতারা এর সঙ্গে যুক্ত। অনেকে অভিযোগ করেন যে, ইউনুস নিজে এই দল গঠনে পরামর্শ দিয়েছেন এবং সমর্থন করেছেন।
এনসিপি নেতারা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, হামলার পিছনে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ কোনও গোষ্ঠী জড়িত।এই ঘটনার পর ঢাকার রাস্তায় প্রতিবাদ তীব্র হয়েছে। শাহবাগ মোড়ে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। ‘আমরা আর ইউনুস সরকার চাই না’ এই স্লোগান এখন সর্বত্র শোনা যাচ্ছে।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এবং সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমের উপর হামলা রোধ করতে পারেনি। কেউ কেউ ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠনের দাবি তুলেছেন। ছায়ানট এবং উদীচী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আয়োজন করেছে, যেখানে শিল্পীরা গান গেয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এই হামলা বাংলা সংস্কৃতি এবং মুক্তচিন্তার উপর আঘাত।










