ত্রিপুরা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, হিংসা এবং ভারতবিরোধী বয়ান নিয়ে গোটা উপমহাদেশে (Tripura royal attacks Yunus)উদ্বেগ বাড়ছে। ছাড় পাচ্ছে না সংবাদ মাধ্যমও। এই ইস্যুতেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের উত্তরসূরি ও টিপ্রা মোথা দলের প্রধান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা।
একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি সরাসরি ইউনুসের ভূমিকা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ক্ষোভ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলে কেন বারবার টিপ্রা জনগোষ্ঠীকেই নিশানা করা হচ্ছে? তিনি বলেন গতকাল রাতে দিপু চন্দ্র দাসকে যেভাবে নৃশংস হত্যা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক দলই মুখ খুলছে না।
WorkIndia Raises INR 97 Crore in Latest Funding Round Led by Aavishkaar Capital
তিনি বলেন ইউনুস শুধুমাত্র টিপ্রা পার্টিকে গুন্ডা বলেন কিন্তু আসল গুন্ডারা তার নিজের দেশেই বসে আছে এবং এই ধরণের উগ্রবাদী আচরণ করছে। সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রাণে মেরে ফেলছে। ভারতীয় দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে যারা জোর গলায় বলে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল ভেঙে দেওয়ার কথা তাদের বিরুদ্ধেও মুখে কুলূপ এঁটেছেন ইউনুস এমনটাই অভিযোগ তার।
প্রদ্যোত তার অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দিয়েছেন “আপনাদের প্রকৃত শত্রু তো বাংলাদেশে থাকা উগ্র মৌলবাদীরা। তা হলে টিপ্রাদের টার্গেট করা হচ্ছে কেন?” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায় এড়িয়ে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
টিপ্রা মোথা শুরু থেকেই এই বিষয়গুলিতে সরব। প্রদ্যোতের দাবি ত্রিপুরা ও গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের যোগাযোগ গভীর। ফলে ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের উপর আঘাত মানে এপার বাংলার মানুষও মানসিকভাবে আক্রান্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিপ্রার এই অবস্থান শুধু মানবিক নয়, কৌশলগতও। উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতি সরাসরি যুক্ত। প্রদ্যোত দেববর্মার বক্তব্যে সেই আশঙ্কাই উঠে এসেছে বাংলাদেশে উগ্রবাদ বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পড়বে।
ইউনুস সরকারের উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মৌলবাদী হিংসার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপের বদলে আন্তর্জাতিক মহলকে আশ্বস্ত করার বিবৃতিতেই সরকার সীমাবদ্ধ। তাঁর মতে, “বিবৃতি দিয়ে আগুন নেভে না, নেভে কাজ দিয়ে।”
টিপ্রা মোথার সমর্থকদের দাবি, তারা কোনও দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং উগ্রবাদ ও হিংসার বিরুদ্ধে। তারা মনে করে, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হলে তা সে বাংলাদেশে হোক বা অন্য কোথাও তার প্রতিবাদ করা নৈতিক দায়িত্ব। আর সেই প্রতিবাদ করার জন্য যদি টিপ্রাদের নিশানা করা হয়, তবে তা গণতন্ত্রের পক্ষেই অশনিসংকেত।
এই বক্তব্য ঘিরে ত্রিপুরার রাজনীতিতেও নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরেই আলোচনা শুরু হয়েছে, বাংলাদেশ ইস্যুতে উত্তর-পূর্ব ভারতের অবস্থান কী হওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রদ্যোত দেববর্মার প্রশ্নগুলো শুধু ইউনুসকে নয়, গোটা আঞ্চলিক রাজনীতিকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে। বাংলাদেশ আজ যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার প্রতিধ্বনি যে সীমান্তের এপারেও শোনা যাচ্ছে—TIPRA নেতার বক্তব্য সেই বাস্তবতাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
