চট্টগ্রাম: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার নিয়ে সরব হওয়া সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর বিরুদ্ধে আইনি ফাঁস আরও শক্ত করল মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সোমবার চট্টগ্রামের একটি আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন (অভিযোগ গঠন) করেছে। ১৯ জানুয়ারি তাঁকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে পেশ করা হয়। এদিন কালো ছাতা দিয়ে ঢেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁকে এজলাসে নিয়ে যায় পুলিশ।
খুনের সময় পুলিশ হেফাজতে ছিলেন চিন্ময় প্রভু!
আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মূল অভিযুক্ত করা হলেও তাঁর আইনজীবীদের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের যুক্তি, যে সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে খুন করা হয়েছিল, সেই সময় চিন্ময় প্রভু জেল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে প্রিজন ভ্যানে ছিলেন। ফলে কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি যোগ থাকা সম্ভব নয়। এমনকি এই মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেওয়া অন্য অভিযুক্তদের কেউ চিন্ময় প্রভুর নাম উল্লেখ করেননি। আইনজীবীদের অভিযোগ, নিছক হেনস্থা করতেই তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ও পতাকা বিতর্ক taslima nasrin on Chinmoy Krishna Das
২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সনাতন জাগরণ মঞ্চের সমাবেশ থেকে চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন। যদিও তথ্য বলছে, গেরুয়া পতাকাটি ভিন্ন একটি স্তম্ভে ছিল এবং চিন্ময় প্রভু নিজে সেটি লাগাননি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি থাকার পর এবার নতুন করে খুনের মামলায় তাঁর নাম জড়ানোয় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তসলিমা নাসরিনের উদ্বেগ ও ‘রাজনৈতিক হত্যা’র আশঙ্কা
চিন্ময় প্রভুর এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোমবার ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি ইউনূস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তসলিমা লেখেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করা হয়েছে। যখন আলিফ খুন হন, তিনি তখন পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। কেন একজন নিরপরাধ মানুষকে দিনের পর দিন হেনস্থা করা হচ্ছে?”
তসলিমা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন, “আমার ভয় হয়, কখন একদিন শুনব চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মৃত্যু বরণ করেছেন। তিনি তো মরবেন না, তাঁকে মেরে ফেলা হবে। পলিটিক্যাল মার্ডার তো বাংলাদেশের জেলগুলোয় অহরহই ঘটে।” তাঁর মতে, নির্যাতিত হিন্দুদের মনে সাহস জোগানো এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণেই চিন্ময় প্রভুকে টার্গেট করা হয়েছে।
আদালতের পরিস্থিতি
এদিন আদালত চত্বরে ছিল কড়া পুলিশি পাহারা। আলিফ হত্যা মামলায় মোট ৩৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে বর্তমানে ২২ জন জেলবন্দি। গত জুলাই মাসেই এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। ঘটনার দিন আদালত ভবনের সামনে সংঘর্ষ চলাকালীন আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে খুন করা হয়। চিন্ময় প্রভুর অনুগামীদের দাবি, তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করতেই একের পর এক সাজানো মামলায় তাঁদের নেতাকে বন্দি করে রাখা হচ্ছে।
